ফেনীতে জনতার অধিকার পার্টির (পিআরপি) চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম ভূঞার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে পরশুরাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ফেনী প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে হামলার ঘটনায় পরশুরাম বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দোষারোপ করেন তিনি।
শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে পরশুরাম অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তারিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই এলাকার মেয়ে। তার কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য দাবি জানাতে হবে কেন। এই বক্তব্যের পরপরই বিএনপির ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ।
স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের উদ্যোগে বন্যা প্রতিরোধে মুহুরী কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও খাল খননে পরশুরামবাসীর ভূমিকা এবং সরকারের করণীয় শীর্ষক এই সেমিনারে উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বেড়িবাঁধ সংরক্ষণ পরিষদ’র আয়োজনে পরশুরাম উপজেলার একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি এবং সেখানে বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্য চলাকালীন সময় হঠাৎ পরশুরাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ কমিশনার ও যুবদলের আহবায়ক শামছুল আলম শাকিলের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা করা হয়। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণের সহায়তায় আমি প্রাণে রক্ষা পাই। আমি মনে করি, পরশুরাম উপজেলা সন্ত্রাসের জনপদে রূপান্তর হচ্ছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
পরশুরাম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল আলম শাকিল এ বিষয়ে বলেন, আমি তার সাথে মজা করেছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী নন। তাকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়া তার ঠিক হয়নি। আমি বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করেছি। তার সাথে আমার শুধু বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এর বেশি কিছু না।
এ ব্যাপারে পরশুরাম থানার ওসি মো. নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনাস্থলে আমি উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। এ ঘটনায় পিআরপির চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।