কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতের বেলায় জরুরী বিভাগে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও ফার্মেসিগুলোতে পাওয়া যায় না কোন ধরনের ঔষধ। নিরাপত্তাহীনতার অভাবে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই উপজেলা সদরের সকল ফার্মেসি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় রাতের বেলা চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের। বিশেষ করে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে রাতে আসা রোগীদের।
দীর্ঘদিন ধরে মুরাদনগরের সচেতন নাগরিকরা ঔষধ ক্রয়ের জন্য ২৪ ঘন্টা ফার্মেসি খোলা রাখার দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালের আশেপাশে কোন ওষুধের দোকান খোলা রাখতে রাজি হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতের বেলা দেয়া হয় না কোন ধরনের নিরাপত্তা।
জানা যায়, হাসপাতালের বাউন্ডারির ভিতরে ২০০৩ সাল থেকে একটি ফার্মেসী চালু ছিল। তখন রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা ২৪ ঘন্টা জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পেতে তেমন সমস্যা হতোনা। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই
মাস থেকে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় রাতের বেলা চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তী। সেটি আবার চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার জোড় দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। তবে কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রয়েছে সেই ঔষুধের দোকানটি।
স্থানীয়রা জানায়, দুর্ঘটনাবশত কারণে রাত ১টার পরে যদি কেউ মুরাদনগর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যায় ঠিকই সেই অনুযায়ী বাহিরের ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে আনা যায় না। কারণ তখন সব ঔষধের দোকান থাকে বন্ধ। অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী না পেয়ে রোগীকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এতে যেমন অর্থ ব্যয় হয় তেমন ভোগান্তিও পোহাতে হয়।
সরেজমিনে রাত ১১টার পর গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল রোড ও উপজেলা সদরের প্রায় সকল ফার্মের্সী বন্ধ। যে দুয়েকটি খোলা আছে সেগুলো বন্ধ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাত ১২টার পর আর কোন ঔষধের দোকান খোলা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিক সরকার বলেন, কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ পেটের সমস্যার কারণে আমার বাবা রাত ১টার পর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাই। ডাক্তার ভর্তি দিলে কিছু ঔষধ বাহির থেকে আনার প্রয়োজন হয়। তখন বাজারে গিয়ে কোন দোকান খোলা না পাওয়ায় বিপদে পড়ে যাই।
মুরাদনগর সদরের গোমতী মার্কেটের দি নিউ সুলতান ফার্মেসীর মালিক মামুন বলেন, হাসপাতাল বাউন্ডারির ভিতরে আমাদের একটি ফার্মেসী ছিল। মূলত আমার বাবা রোগীদের কথা চিন্তা করে সেবামূলক উদ্দেশ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ২০০৩ সালে ফার্মেসী চালু করেন। বাবার পর সেটা আমরা মানবসেবা হিসাবে ধরে রেখেছিলাম। কিন্ত ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফার্মেসী সরিয়ে ফেলতে বললে আমরা সেটি বন্ধ করে দেই। জনগনের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ যদি অনুমতি দেয় তাহলে সেটি আবার চালু করার ইচ্ছা আছে।
মুরাদনগর উপজেলা সদরের মায়া ফার্মেসির মালিক বাবুল চন্দ্র সাহা বলেন, আমার দীর্ঘদিনের খুব ইচ্ছে ছিল মানুষের সেবায় ২৪ ঘন্টা দোকান খোলা রেখে সার্ভিস দিতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউ নিরাপত্তা দিতে রাজি হয় না। একটা ফার্মেসিতে কম করে হলেও ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার মালামাল থাকে। প্রশাসন যদি নিরাপত্তা দিতে রাজি না হয়। তাহলে কে ঝুঁকি নিয়ে দোকান খোলা রাখতে চায়?
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, ফার্মেসি মালিকদের আমি ডেকে বলেছি রাতে অন্তত কয়েকটি ঔষধের দোকান খোলা রাখতে। কিন্তু তারা কেউ রাজি হয় নাই।
হাসপাতালের বাউন্ডারির ভিতরে ২৪ ঘন্টা খোলা থাকা ফার্মেসীটি বন্ধ হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে প্রায় সকল সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ফার্মেসি ছিল। বর্তমানে আইনি জটিলতার কারনে বন্ধ রয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুর রহমান বলেন, এটি একটি খুব বড় সমস্যা। কিছুদিন আগে আমার এক স্টাফ রাতের বেলা অসুস্থ হয়ে পড়লে মুরাদনগর সদরের ফার্মেসিগুলো বন্ধ থাকায় তার জন্য
দেবিদ্বার উপজেলা থেকে ঔষধ আনতে হয়। শুনেছি হাসপাতালের বাউন্ডারির ভেতরে একটি ফার্মেসি ছিল বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে।
যেহেতু রাতের বেলায় নিরাপত্তার একটু ঘাটতি রয়েছে। তাই হাসপাতালে বাউন্ডারির ভেতরের ঔষধের দোকানটি পুনরায় কিভাবে খোলা রাখা যায় এ বিষয়ে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেয়ার চেষ্টা করব।