কুমিল্লা নগরীর প্রবেশপথসহ অন্তত তিনটি প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল হয়ে আছে। পিচ উঠে যাওয়া, বড় বড় গর্ত আর পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব সড়ক। এতে করে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ী বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় পিচ ও ইট-পাথরের চিহ্নও নেই বললেই চলে। খানাখন্দে ভরে গেছে পুরো সড়ক। যান চলাচল চলছে ধীরগতিতে।
এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), শালবন বিহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় এ সড়কে জমে থাকা পানিতে দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। যানবাহনের যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অটোরিকশাচালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ রাস্তায় সুস্থ মানুষও ঠিকমতো চলতে পারে না। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ যেন দেখেও দেখছে না।
এ ছাড়া টমছম ব্রিজ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হয়ে বাখরাবাদ পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও নাজুক। রোগী, শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিকসহ প্রতিদিন লাখো মানুষ চলাচল করেন এ পথে। অথচ সড়কটির অনেক স্থানে এখন আর যান চলাচলই সম্ভব নয়।
নগরীর কান্দিরপাড় থেকে রানীর বাজার হয়ে ধর্মপুর পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও ভিন্ন কিছু নয়। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে ব্যাটারিচালিত যান উল্টে দুর্ঘটনার খবর মিলছে প্রায় প্রতিদিনই।
এ বিষয়ে টমছম ব্রিজ এলাকার আনোয়ার হোসেন বলেন, শহরের রাজগঞ্জ, নজরুল এভিনিউ, নিউ মার্কেট এলাকা—সবখানেই রাস্তাগুলোর করুণ অবস্থা। অথচ এসব সংস্কার না করে নতুন রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ পুরোনো সড়কগুলো আগে ঠিক করা দরকার।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেডিকেলের সড়কের কাজ কয়েক দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন শুরু করবে। আর বাকিগুলোর কাজ ডিসেম্বরের শুরু হবে। চলমান বর্ষার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বর্ষা শেষে সংস্কার কাজ শুরু হবে। তখন মানুষের দুর্ভোগ কমে আসবে বলে আশা করছি।