প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতানিয়াহু

মিডিয়া হামাসের ‘প্রোপাগাণ্ডা’ প্রচার করছে, নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি

গাজায় দুর্ভিক্ষ নিয়ে সংবাদ প্রচারের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে হামাস ‘প্রোপাগাণ্ডা’ চালাচ্ছে, আর তা ‘পুরোপুরি বিশ্বাস করে’ প্রচার করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

এছাড়া গাজায় ‘অপুষ্টিতে ভোগা’ কঙ্কালসার এক শিশুর ছবি ছাপানোয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইসরায়েলের গাজা সিটি দখল নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠকের আগে রবিবার স্থানীয় সময় দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, মিথ্যা ভেদ করে সত্য উন্মোচন করতে চান জানিয়ে ব্রিফিংয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন— ‘গাজায় এখনো হামাসের হাজার হাজার ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ রয়েছে এবং তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ‘ধ্বংস’ করা।’

তার মতে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গাজা পরিস্থিতি নিয়ে হামাসের ‘প্রচারণায় পুরোপুরি বিশ্বাস করে ফেলেছে’।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘অপুষ্ট শিশুদের কিছু ছবি প্রদর্শন বিশ্বজুড়ে পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে। ওইসব ফ্রন্ট পেজে ‘ফেক’ (ভুয়া) লেখা শিরোনামে যুক্ত করা হয়েছে।’

এমন একটি ‘ভুয়া তথ্যের’ অভিযোগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, পত্রিকাটি তাদের প্রথম পাতায় এমন একটি শিশুর ছবি ছেপেছে, যেটিকে না খেয়ে দুর্বল দেখালেও তার আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল।’

নেতানিয়াহুর দাবি, শিশুটির মা ও ভাই সুস্থ রয়েছেন এবং নিউইয়র্ক টাইমস এই সংশোধনী ‘চুপিসারে চাপা দিয়ে’ দিয়েছে।

তিনি গাজায় দুর্ভিক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমের কভারেজকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে বলেন, এটি মধ্যযুগে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ছড়ানো ‘দুর্বৃত্ত মিথ্যাচারের’ মতোই একটি ঘৃণ্য প্রচার।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই এর মাধ্যমে গণমাধ্যম স্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই নিউইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতায় এক এক ক্ষুধার্ত শিশু ও তার মায়ের সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করে। এর শিরোনাম ছিল, ‘‘গাজায় ছোট থেকে বড়, অসুস্থরা ক্ষুধার্ত হয়ে মারা যাচ্ছে: ‘কিছুই নেই’।’’

এছাড়া প্রতিবেদনে গাজার ক্ষুধার সংকটে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর ওপর আলোকপাত করা হয়। তাদের মধ্যে ছিল ১৮ মাসের মোহাম্মদ জাকারিয়া আল-মুতাওয়াকের বাবা, যিনি ‘গত অক্টোবর মাসে খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে মারা গিয়েছিলেন,’ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়, মোহাম্মদ নামে ওই শিশু আগে থেকে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল, যা টাইমসের ভাইরাল ফ্রন্ট-পেজ স্টোরিতে উল্লেখ করা হয়নি।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার টাইমস একটি সম্পাদকীয় নোট দিয়ে এই ভুল স্বীকার করে। সম্পাদকীয় নোটে বলা হয়, ‘এই প্রতিবেদনটি আপডেট করা হয়েছে যাতে মোহাম্মদ জাকারিয়া আল-মুতাওয়াক সম্পর্কে তথ্য যোগ করা হয়, যিনি গাজায় গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর, টাইমস তার চিকিৎসকের কাছ থেকে জানতে পারে যে মোহাম্মদ আগে থেকেই শারীরিক সমস্যা ছিল।’