চোখ ধাঁধানো অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের হারারেতে ত্রিদেশীয় যুব সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন রিজন হোসেন। প্রথমে দলের বিপর্যযের সময় ব্যাটিংয়ে ৯৫ রানের ইনিংস, এর পর বল হাতে শিকার পাঁচ উইকেট। তার এই দুর্দান্ত নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।
রাউন্ড রবিন লিগে তিনবার দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়ে দুইবার জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় প্রোটিয়ারা। শুরুটা অবশ্য মনের মতো হয়নি বাংলাদেশের। ১৯ ওভারের মধ্যে বোর্ডে ৬৫ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার, রিফাত বেগ ও অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। তবে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের হাল ধরেন আলিন ও রিজন। ১১৭ রানের জুটি গড়েন দুজন মিলে। ৭৫ বলে ৬ চারে ৬৫ রান করে আলিন আউট হলে ভাঙে সেই জুটি।
এর পর রিজনকে সঙ্গ দিয়ে যান উইকেটকিপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তাদের ঝড়ো জুটিতে আসে ৬৩ রান। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকতে দলের স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নিতে গিয়ে বিতর্কিত রান আউটের শিকার হয়ে থামেন রিজন। ১০ চারে ৯৬ বলে ৯৫ রান করেন তিনি। আর শেষ পর্যন্ত আবদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ২৯ বলে ৫ চারে ৩৮ রান করে। সামিউন বাশির রাতুলও অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ২ চারে ১৩ রানে। প্রোটিয়াদের হয়ে দুই উইকেট নেন বান্ডাইল এমবাথা। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২৬৯ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় ভালো শুরু পেয়েছিল প্রোটিয়ারা। কুড়ি ওভার না যেতেই বোর্ডে জমা হয় ১১০ রান। ফর্মে থাকা প্রোটিয়া অধিনায়ক মুহামেদ বুলবুলিয়াকে বোল্ড করে প্রোটিয়াদের সুর কেটে দেন রিজন। সেই ধারায় ১৬৪ রান তুলতেই ৭ উইকেট খুঁইয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ৫৯ রানের জুটি গড়েন এমবাথা ও এনটানডো সনি। বাংলাদেশকে আবার পথে ফেরান রিজন, এ দুজনের উইকেট তুলে নিয়ে। আর শেষ উইকেট হিসেবে বায়ান্ডা মাজোলাকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট শিকার। ৮.৪ ওভারে এক মেডেনসহ খরচা করেন ৩৪ রান। এছাড়া আল ফাহাদ ৩টি ও স্বাধীন ইসলাম ২টি উইকেট নেন।