দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে বেসরকারী পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই বরাদ্দ পাওয়া হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা আমদানির অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলেই এলসি খুলবেন ফলে মঙ্গলবার বা বুধবার (১৩ আগস্ট) থেকে চাল আমদানি শুরু হতে পারে।
আমদানিকৃত চিকন জাতের চাল ৬৭ থেকে ৭০ টাকা মোটা চালের দাম ৫০ থেকে ৫২টাকার মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে আমদানিকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথমধাপে রবিবার খাদ্য মন্ত্রনালয় থেকে চাল আমদানির জন্য দেশের ২৪২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ৫লাখ টন চাল আমদানির বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সিদ্ধ চাল রয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার টন আর আতপ চাল রয়েছে ৩৯ হাজার টন। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১লাখ টন চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ পেয়েছেন হিলি বিরামপুর দিনাজপুরসহ আশেপাশের আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক ওবায়দুর রহমান বলেন, সরকার দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রনে বেসরকারী পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দিতে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে আবেদন আহবান করে খাদ্য মন্ত্রনালয়।
২৩ জুলাই থেকে শুরু করে ৭আগস্ট পর্যন্ত সেই আবেদন জমা প্রদানের সময়সীমা ছিল। সারা দেশের ন্যায় হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। রবিবার বিকাল ৪টার নাগাদ আমিসহ হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছেন। এরপর আজকে আমরা চাল আমদানির অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিট আইপি এর জন্য আবেদন করেছি। আজকের মধ্যে যদি সরকার আমদানির অনুমতি পত্র বা আইপি ইস্যু করে তাহলে হয়তোবা আজ বিকালের মধ্যে ব্যাংকে এলসি খোলা হতে সম্ভব হতে পারে। অথবা আগামীকাল ব্যাংকে চালের এলসি খোলা শুরু হতে পারে।
এলসি খোলা সম্পুর্ন হলে আগামীকালকে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হতে অথবা খুব বেশী হলে পরেরদিন থেকে চাল আমদানি শুরু হবে বন্দর দিয়ে। ভারত থেকে চাল আমদানি শুরুর ফলে দেশে যে মিলাররা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল সেটি কমে আসবে। আমদানি শুরুর খবরেই ইতোমধ্যে দাম কিছুটা কমেছে। চাল দেশে প্রবেশ করলে সাথে সাথে কেজি প্রতি ৬ থেকে ৮ টাকা করে দাম কমে যাবে। ভালো মানের চিকন জাতের চাল ৬৭ থেকে শুরু করে ৭০টাকার মধ্যে থাকবে। স্বর্না জাতের চাল ৫০ থেকে ৫২টাকার মধ্যে থাকবে বলেও জানান তিনি।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারি সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য ইতোমধ্যেই খাদ্য মন্ত্রনালয় থেকে অনেক আমদানিকারককে বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া অনেক আমদানিকারক কৃষি মন্ত্রনালয়ে চাল আমদানির অনুমতি ইমপোর্ট পারমিট চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আইপি ইস্যু হয়নি আইপি ইস্যু হলে আমদানিকারকরা এলসি খুলে চাল আমদানি করতে পারবেন। চাল আমদানি শুরু হলে সেসব চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা নীরিক্ষা করে সনদ প্রদান করা হবে যাতে দ্রুত ছাড়করন নিতে পারেন।