এতিমের চাল হরিলুট

মতলব উত্তরে বরাদ্দের অর্ধেকই উধাও

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ৪৬টি এতিমখানার বরাদ্ধকৃত ৪৬ টন চালের মধ্যে ২৫ টনেরও অধিক চাল হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা ঘুরে কলাকান্দি ইউনিয়নের নেদায়ে ইসলাম আশিকে মানযুর (রা.) নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসা এক টন চালের বাজামূল্য ৫০ হাজার টাকার অধিক হলেও তাদেরকে দিয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। এছাড়াও বিনন্দপুর মদিনাতুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানা, সাতবাড়িয়া মাদরাসা ও এতিমখানা, সুজাতপুর দরবেশ বাড়ি মাদরাসা ও এতিমখানাকে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে, জিন নুরাইন ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা, পশ্চিম ইসলামাবাদ মাদরাসা ও এতিমখানা, ষাটনল আরাবিয়াতুল উম্মাহ মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা, ষাটনল হাফেজ আব্দুল লতিফ দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানা, দারুল উলুম কাসেমিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা, দশানী আল-আমিন আকরামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা, সাড়ে পাঁচানী হোসাইনিয় মাদরাসা ও এতিমখানা, মোহনপুর আল হেরা মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা, মুদাফর রহমানিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা, মাথাভাঙ্গা মিলারচর মাদরাসা ও এতিমখানা, পাঁচআনী আমিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানাসহ আরও কয়েকটি এতিমখানায় গিয়ে জানাগেলে এরা ১ হাজার কেজি (১টন) চালের স্থলে তারা পেয়েছে ৬শ কেজি করে চাল। কোথাও কোথাও আবার, বসত ঘরে এতিমখানার নামে নতুন ডিজিটাল সাইনবোর্ড ঝুলতে থাকলেও ভেতরে ছোট বাচ্চাদের বসবাস বা লেখাপড়ার পরিবেশ পাওয়া না গেলে। সেই সব এতিমখানাগুলো সরকারি বরাদ্ধকৃত এক টন চাল পাওয়ার তালিকায় রয়েছে।

এতিমদের জন্য বরাদ্ধকৃত চালের অর্ধেকচাল বা ২৩ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করার বিষয়ে উপজেলার রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তারা বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক কয়েকজন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য অত্যন্ত উদার মানুষ। তিনি এতিমদের চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তা আমরা বিশ্বাস করি না। তবে তার কোন প্রতিনিধি বা কাছের লোকরা প্রভাব বিস্তার করে এমনটা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন।

তাদের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, এমপি সাহেব তার নিজের সম্মান ধরে রাখতে এখনই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে বলে আমরা আশা করি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এতিমখানায় সরকারি যে মানের চাল বিতরণ করা হয়েছে তার কেজি প্রতি বাজার মূল্য ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সে হিসাব মতে, লোপাটকারীরা এতিমদের অন্তত ১৫ লাখ টাকার চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে এতিমখানার প্রতিনিধিদের চাল কখনও আমি নিজে দিয়েছি, কখনও আমার অফিসের স্টাফদের মাধ্যমে বিতরণ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত চাল কম দেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এমদাদুল হক বলেন, আমরা তালিকাভুক্ত প্রতিটি এতিমখানার নামে এক টন করে চালের ডিও (বরাদ্দপত্র) ইস্যু করেছি। এক টন চাল বরাদ্দের সব কাগজপত্র আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বরাদ্দ দেওয়ার পর বাইরে কেউ কোনো অনিয়ম করে থাকলে সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, চাল কম দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি এখনই খোঁজ নিয়ে দেখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত