শক্তিশালী মুরাসের সামনে নির্ভীক আবাহনী

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফে জাতীয় স্টেডিয়ামে কিরগিজস্তান কাপ বিজয়ী এফসি মুরাস ইউনাইটেডকে আতিথ্য দেবে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। গত মৌসুমে লিগ শিরোপা না জিতলেও মোহামেডানের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতার সুযোগে এশিয়ার ক্লাব পর্যায়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদার এই লিগে খেলার সুযোগ মেলে ধানমণ্ডির ক্লাবটির। আর বাছাইয়ে এগিয়ে থাকায় নিজের দেশের মাটিতে মিলেছে খেলার সুযোগ। প্লে-অফ খেলতে নামার আগে দুই দলের অবস্থান দুই রকমের। আবাহনী সম্পর্কে খুব একটা জানাশোনার সুযোগ পায়নি মুরাস। অন্যদিকে জালাল-আবাদের ক্লাবটির অন্তত সাত-আটটি ম্যাচ দেখে শক্তি-দুর্বলতার ধারণা নিয়েছে আবাহনী।

গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাই আত্মবিশ্বাসী শুনিয়েছে আবাহনী কোচ মারুফুল হক ও অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবুকে। মুরাসকে নিয়ে যে পরিকল্পনার ছক মারুফ এঁকেছেন, তার শিষ্যরা, সেটা মাঠে ঘটাতে পারলেই মূলপর্বে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী আবাহনী কোচ। তাই ইতিবাচক ফল দিয়েই মৌসুমের শুরুটা করতে চায় আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা। কোচ মারুফ জানান, ‘গত মৌসুমের থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো আমরা এ মৌসুমে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আর বিদেশি খেলোয়াড়ের ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা ছিল তিনজনকে পাওয়ার। সেটা না হলেও আমরা একজনকে পেয়েছি। তারপরও অন্যান্য ক্লাব থেকে আল আমিন, শেখ মোরসালিন ও কাজেম শাহ আসাতে আমি মনে করি আমাদের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ গত মৌসুমের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থায় আছে। আর রক্ষণে যারা গতবার ছিল তারাই রয়েছেন।’

এ মৌসুমে মোহামেডানের প্রাণভোমরা সুলেমান দিয়াবাতের গায়ে উঠেছে আকাশি-হলুদ জার্সি। তাকে নিয়ে প্রত্যাশাটাও উঁচুতে সমর্থকদের। কোচ বলেন, ‘ছয় বছর ধরে সুলেমান দিয়াবাতেকে দেখে আসছি এবং পুরোটা সময় প্রতিপক্ষ দলে। ওর সামর্থ্য সম্পর্কে আমার জানা আছে। এই ম্যাচকে ঘিরে আমাদের পরিকল্পনা তার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। অনুশীলনে সে যতক্ষণ ছিল সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছে। ম্যাচে সে যদি তার ৫০ শতাংশও করতে পারে তাহলে আমি কোচ হিসেবে খুশি থাকব।’

এএফসির টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নিলেও দল হিসেবে মুরাস যে শক্তিতে এগিয়ে সেটি জানেন আবাহনীর কোচ, ‘মুরাসের কথা বললে তাদের যে রকম ফ্যাসিলিটিজ আছে তা ইউরোপীয় বড় বড় ক্লাবগুলোর মতোই প্রায়। আমাদের সঙ্গে হয়তো নতুন খেলছে কিন্তু তারা তাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। তাদের শক্তিমত্তার জায়গাগুলো আমাদের জানা আছে। তাদের খেলায় ইউরোপিয়ান কিছু ধাঁচ রয়েছে, বিশেষ করে তাদের চেঞ্জিংগুলো, সুইচিং অব প্লেয়ারগুলো। তাদের এ জিনিসগুলো আমাদের জন্য বিপজ্জনক এবং আমাদের এগুলোই বন্ধ করতে হবে। তাদের দলে ইউক্রেনের অনেক খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে রক্ষণের চারজনই ইউক্রেনের। তারা পেশাদার ক্লাব, তাড়াতাড়ি প্রতিপক্ষকে বুঝতে পারবে। তাদের জন্য এটা কোনো ডিজঅ্যাডভান্টেজ না। যেহেতু টেকনিক্যালি, ট্যাকটিক্যালি আমাদের খেলোয়াড়রা ওদের থেকে পিছিয়ে। মানসিকভাবে যেন আমাদের খেলোয়াড় এগিয়ে থাকে। মেন্টালি অনেক সময় প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে দেওয়া সহজ, আমি সেই পথেই হাঁটছি।’

নিজের শিষ্যদের নিয়েও আত্মবিশ্বাসী দেশের এই শীর্ষ কোচ, পূর্ণ আস্থা রয়েছে তার খেলোয়াড়দের ওপরে। মারুফুল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘আস্থাটা আমার এক দিনেই আসেনি। গত দুই তিন সপ্তাহ অনুশীলনে যা চেয়েছি তাই ওরা করতে পেরেছে। আমার ট্রেনিং ও ট্যাকটিসের ওপর আস্থা থাকলে এবং মাঠে কোনো ভয় না পেলে ওরা সফল হবে। আমাদের খেলোয়াড়দের বেলায় বলব, হোম অ্যাডভান্টেজ সব সময় আমাদের জন্য ডিসঅ্যাডভান্টেজই থাকে। এতে যে প্রেশার ও চাওয়া-পাওয়ার সমীকরণ থাকে সেগুলো আমি আমার খেলোয়াড়দের ওপর চাপাতে চাই না। আমাদের নৈপুণ্য দেখাতে নির্ভয়ে হয়।’

এ তো গেল গল্পে আবাহনীর অংশ, চ্যালেঞ্জ লিগে অভিষেক ম্যাচে আলো ছড়িয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে চান গত এক বছর ধরে মুরাস ইউনাইটেডের ডাগআউট সামলানো কোচ পুচকভ সারজি। সংবাদ সম্মেলনে তার সোজাসাপ্টা কথা, ‘অবশ্যই আমরা আমাদের সেরাটা দেব জেতার জন্য। যে দুটো দলের কথা বললেন তারা খুব অভিজ্ঞ ক্লাব আমাদের দেশের। আমরা নতুন দল, তবে ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করব। এশিয়ান ফুটবলে নিজেদের তুলে ধরার ভালো সুযোগ এটি।’ প্রস্তুতির ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা আবাহনীর একটি ম্যাচই পেয়েছি ২৭ মে যেটা খেলেছিল। সেই ম্যাচ দেখে আমরা অ্যানালাইস করার চেষ্টা করছি। আমাদের দলটা অর্ধেক স্থানীয় ও অর্ধেক বিদেশি খেলোয়াড়ে পূর্ণ। দলের পরিবেশ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। আশা করি সেটা আমাদের জিততে সহায়তা করবে।’

বাংলাদেশের সমর্থক মহল এবং এখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়েও সতর্ক মুরাস কোচ, ‘অবশ্যই ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলাটা সহজ। সমর্থকরা দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়। তবে আমরা এরই মধ্যে অনেক অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেছি। এখানকার কন্ডিশন আলাদা। আর্দ্রতা ও গরম বেশি। সেটা আমাদের খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং আমাদের জন্য কঠিন হবে। আমরা জানি এএফসি টুর্নামেন্টে আবাহনী খুব অভিজ্ঞ দল। ঘরোয়া লিগে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমাদের খেলোয়াড়রাও যথেষ্ট অভিজ্ঞ। কাল তারা সেরাটা দিয়ে খেলবে।’

কথার লড়াইয়ে ঝাঁজ ছড়িয়েছেন দুই কোচই, এখন দেখার পালা আজ বিকেল ৫টায় মাঠের লড়াইয়ে দান মারতে পারেন কোন পক্ষ। কেননা আসছে অক্টোবরে চ্যালেঞ্জ লিগের মূলপর্বে খেলতে হলে, এই প্লে-অফ ম্যাচে জেতা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।