ফিটনেস পরীক্ষার অংশ হিসেবে একদিন আগে জাতীয় স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দৌড় ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই হয়। ক্রিকেটারদের ফিটনেস ক্যাম্প এখনো চলমান। ক্যাম্পে নাহিদ রানা, তানজিম হাসান সাকিবদের নিবেদনে মুগ্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) স্ট্রেংন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ নাথান কেলি।
এশিয়া কাপের প্রথমিক স্কোয়াডের সদস্য ছাড়াও টেস্ট পুলের কয়েকজন ক্রিকেটার অংশ নেন ফিটনেস পরীক্ষায়। সোমবার ১৬০০ মিটার দৌড়ে সবচেয়ে ভালো করেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। বড় কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টের আগে ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য ৪০০ মিটারের ট্র্যাকে চার চক্করের দৌড় প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে।
নাহিদ মাত্র ৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে ১৬০০ মিটার দৌঁড় শেষ করেন তিনি। তার পরে ছিলেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব, সময় নেন ৫ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড। তাদের প্রশংসায় আজ মঙ্গলবার কেলি বলেন, 'আমরা জাতীয় স্টেডিয়ামে কিছু টেস্ট করেছি। স্প্রিন্ট টেস্ট এবং টাইম ট্রায়াল করেছিলাম। টাইম ট্রায়ালে আমরা মনে হয় ১২ জন খেলোয়াড়ের পার্সোনাল বেস্ট পেয়েছি। অনেক খেলোয়াড়ই এই জায়গায় উন্নতি করছে। নাহিদ অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। ৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে ১৬০০ মিটার দৌড় শেষ করেছে। আর পুরো দল একসাথে এই দিকটা উন্নত করার চেষ্টা করছে। আমরা এখানে কিছু স্ট্রেংথ টেস্টও করেছি। সবগুলো স্ট্রেংথ টেস্ট একসাথে মিলিয়ে ৫৬টি পার্সোনাল বেস্ট পেয়েছি।'
ফিটনেস টেস্টে নিজেদের শতভাগ নিঙরে দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা। এমনটা উল্লেখ করে কেলি বলেন, 'ক্রিকেটাররা খুব মোটিভেটেড। ওরা সবাই প্রচণ্ড পরিশ্রমী এবং নিজেদের সেরা বানাতে চায়। আমি কখনো আমাদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ফিটনেস নিয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তারা উন্নতির চেষ্টা করছে'
টাইম ট্রায়াল' কে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে কেলি বলেন, 'এটার ফল নিয়ে কম বিতর্ক হয়। যখন আপনি ইয়ো-ইয়ো বা বিপ টেস্ট করান, কখনো কখনো খেলোয়াড়েরা খুব অল্পের জন্য পিছিয়ে যায়, কিন্তু তখন তাদের থামিয়ে দিয়ে বলাটা কঠিন হয়ে যায় যে তোমার টেস্ট শেষ। টাইম ট্রায়ালে ভালো জিনিস হচ্ছে, ঘড়ি মিথ্যা কথা বলে না।'
গত বছরের এপ্রিলে বিসিবিতে কাজ শুরু করেন কেলি। তখন থেকেই ক্রিকেটারদের ফিটনেসের ট্র্যাক বা তথ্য রাখছেন তিনি।
এই ক্যাম্পের ফিটনেস অংশ চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর শুরু হবে স্কিল ট্রেনিং। ২০ আগস্ট থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে প্রস্তুতি ক্যাম্প। সেখানেই ৩০ আগস্ট, ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।