স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে অবরোধ করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ। পরে বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা রেলপথ ছেড়ে দেন।
এ সময় বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিমপাড় এলাকায় রেল ও সড়কপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাকারিয়া জিহাদ বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসের ডিপিপি অনুমোদনের দাবিতে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেলপথ ব্লকেড করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। বৃহস্পতিবার যমুনা সেতু পশ্চিম এলাকায় একযোগে ঢাকা-উত্তরাঞ্চল রেল ও সড়কপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মনিরুল ইসলাম জানান, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টা ৩৯ মিনিটে, চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে এবং ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে উল্লাপাড়া ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও অবরোধের কারণে ট্রেন গুলির ছাড়তে বিলম্ব ঘটে। এ ছাড়া ঢাকা-উত্তরবঙ্গের সাাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ, র্যাব ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়।
উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের অপর সহকারী স্টেশন মাস্টার মাসুম আলী খান দুপুর ৩টার দিকে জানান, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী ৬টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। আটকাপড়া ট্রেনগুলো হলো শরৎনগর স্টেশনে চিলাহাটিগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস, লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশনে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, টাঙ্গাইল স্টেশনে দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস, জামতৈল স্টেশনে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, ইব্রাহিমাবাদ স্টেশনে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস এবং চাটমোহরে ঢাকাগামী তেলবাহী ট্রেন আটকা পড়ে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক তপন ঘোষ জানান, জামতৈল রেলস্টেশনে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ও রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশনে আটকা পড়ে। অন্যান্য স্টেশনেও আরও ট্রেন থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, র্যাব ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা মোছা. হাসিনা খাতুন বলেন, অবরোধের কারণে ৮টি ট্রেন আটকা পড়েছিল। ট্রেনগুলো হলো, ঈশ্বরদীতে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেস, ভাঙ্গুড়া স্টেশনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, শরৎনগর স্টেশনে চিলাহাটিগামী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি এক্সপ্রেস, লাহিড়ী মোহনপপুওে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, টাঙ্গাইলে দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস, জামতৈলে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ইব্রাহিমাবাদে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস ও চাটমোহরে ঢাকাগামী তেলবাহী ট্রেন।
তিনি আরও বলেন, ধূমকেতু এক্সপ্রেস ২টার দিকে রাজশাহী এসে আবার ৪টায় পদ্মা হয়ে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। অপরদিকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ঢাকায় পৌঁছার পর পৌনে ৩টায় আবারও রাজশাহী অভিমুখে ছেড়ে আসার কথা ছিল। এ ছাড়াও রংপুর এক্সপ্রেস রংপুরে ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রামে পৌঁছে আবারও ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু অবরোধের কারণে এসব ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। ফলে ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে ঢাকা-উত্তরাঞ্চল রেলসড়ক।
এ বিষয়ে জাকারিয়া ও হৃদয় বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৯ বছরেও ক্যাম্পাস নির্মিত হয়নি, এটি দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ কর্মচারী-কর্মকর্তাদের চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালছে। এভাবে আর চলতে পারে না। আমরা স্থায়ী ক্যাম্পাস চাই। ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন ছাড়া আমরা ঘরে ফিরব না। তারা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে তাদের এ দাবি পূরণ করা না হলে তারা সকাল ৯টার পর থেকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম এলাকায় রেলপথ ও মহাসড়ক এক সাথে অবরোধ করবে।
এর আগে একই দাবিতে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।