ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল বিমান বানানোর। অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন সময়ে বিমান বানানোর কাজ শুরু করি। এরপর মাঠে কাজ করে ও পরিবার থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে বিমানের যন্ত্রাংশ কিনি। অবশেষে বিমান বানিয়ে আকাশে উড়াতে সফল হয়েছি। এমনটাই বলছিল নিজের তৈরি বিমান আকাশে উড়ানো শিক্ষার্থী রাহুল শেখ।
রাহুল শেখের জন্ম রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বারমল্লিকা গ্রামে। তার বাবা শামসুল শেখ পেশায় একজন কৃষক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে রাহুল সবার ছোট। সে স্থানীয় রামদিয়া বেনীমাধব বিপিনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
রাহুল বলেন, “ছোট বেলা থেকেই আমার বিমান বানানোর ইচ্ছা ছিল। অষ্টম শ্রেনিতে পড়ার সময় থেকে আমি টাকা জোগার করতে শুরু করি। এজন্য মাঠে কাজ করেছি। পরিবারের কাছ থেকেও আর্থিক সহযোগিতা নিয়েছি। এরপর ইউটিউব দেখে শেখা কৌশল, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তা এবং নিজের সঞ্চিত টাকা দিয়ে মোটর, ব্যাটারি ও রিমোট কন্ট্রোলসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনে প্লেনটি তৈরির কাজ শুরু করি। তারপর একটি বিমান বানাই। সেটির ওজন বেশি হওয়ায় বিমানটি আকাশে উড়ানো সম্ভব হয় না। পরে আবার নতুন মডেলের আরেকটি বিমান বানানোর কাজ শুরু করি। একটানা চার দিন পরিশ্রম করে নতুন বিমানটি আকাশে উড়াতে সক্ষম হই। প্রথম দিকে আমার এই বিমান বানানো দেখে অনেকেই উপহাস করতো। এখন সবাই অনেক খুশি। অনেকেই এখন আমাদের বাড়িতে এই বিমান দেখতে আসে। এতে আমার খুব ভালো লাগছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, ককসিট ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে একটি বিমান। বিমানের গায়ে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাশেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ছবি আকা। বিমানের সামনের অংশের নিচের দিকে লেখা রয়েছে অচিন পাখি ৭৮৭। বাড়িতে এলাকার ছোট-বড় অনেকেই বিমানটি দেখতে ভীড় জমিয়েছেন। সবাইকে কিছুক্ষণ পরপর বিমানটি উড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে রাহুল।
রাহুলের বাবা শামসুল শেখ বলেন, “আমি কৃষি কাজ করি। রাহুল আমার পাঁচ ছেলে মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। ইলেকট্রনিক্স কাজের প্রতি ওর একটু বেশি মনোযোগ রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই রাহুল এসব কাজে বেশ মনোযোগী। এখন একটি বিমান বানিয়ে আকাশে উড়িয়েছে। এতে এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আমি চাই আমার ছেলেটা আরও এগিয়ে যাক। আমার ইচ্ছা ছিল ছেলেটাকে লেখা পড়া শিখিয়ে চাকরি দেওয়ার। সরকার যদি সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো সে অনেক বড় কিছু তৈরি করতে পারবে।”
রামদিয়া বেনীমাধব পিপিনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শংকর পোদ্দার জানান, রাহুল শেখ আমার বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়ালেখায় সে খুব মনোযোগী না হলেও কারিগরি দিক দিয়ে তার অসম্ভব প্রতিভা রয়েছে। সে বাড়িতে বসে ইউটিউব দেখে ইলেক্ট্রনিক বিভিন্ন জিনিসপত্র বানায়। সে একটি বিমান বানিয়ে আকাশে উড়িয়েছে। বিষয়টি দেখে আমরা অবাক হয়েছি। তার মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। এই প্রতিভা কাজে লাগাতে পারলে সে অনেক বড় কিছু হবে।