এবার গ্রুপসেরা হওয়ার স্বপ্ন বসুন্ধরার

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ বড় আক্ষেপ হয়েছিল বসুন্ধরা কিংসের জন্য। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ানো আসরে বসুন্ধরা খেলেছিল সরাসরি গ্রুপপর্বে। ভুটানের থিম্পুতে গ্রুপের তিন ম্যাচেই হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়। দেশের শীর্ষ ফুটবলে পা রাখার পর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় কখনোই এতটা বাজে ফল হয়নি বসুন্ধরার। তবে সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও ঘুচিয়েছে তারা। মঙ্গলবার রাতে দোহায় প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ম্যাচে সিরিয়ার পরাশক্তি আল-কারামাহকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপপর্বে নাম লিখিয়েছে বসুন্ধরা। এবার অতীতের কালিমা মুছে দেওয়ার পালা। অক্টোবরে গ্রুপসেরা হয়ে পরের ধাপে যাওয়াই এখন তাদের স্বপ্ন।

থিম্পুতে বি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে লেবাননের নেজমেহর কাছে ১-০ গোলে হেরে অভিযান শুরু করেছিল পাঁচবারের প্রিমিয়ার লিগ জয়ীরা। রোমানিয়ান কোচ ভ্যালিরিউ তিতার অভিষেকও হয়েছিল সেই হারে। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত জায়ান্ট ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল। আর গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক পারো এফসি ২-১ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত লজ্জা দেয় বসুন্ধরাকে।

সেই ব্যর্থতা পুরো মৌসুমটাই বলতে গেলে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে বসুন্ধরাকে। টানা ষষ্ঠ লিগ শিরোপা জেতা হয়নি। ফলে একটা সময় চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার স্বপ্নই শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেই স্বপ্নটা নতুন করে ফিরে আসে নানা সমীকরণ মিলে যাওয়ায়। তারপরও বাধা-বিপত্তি কাটেনি। নানা প্রতিবন্ধকতায় এ মৌসুমে নামিদামি বিদেশি দলে ভেড়াতে পারেনি তারা। প্রিলিমিনারি রাউন্ডের প্রস্তুতিও বেশিদিন নেওয়া হয়নি। হাই প্রোফাইল কোচ অবশ্য তারা নিয়োগ দিয়েছিল। ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাবেক কোচ সার্জিও ফারিয়াসের নাম ঘোষণা করেছিল ক্লাবটি। দোহায় দলের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তার। তবে ম্যাচে ৩৬ ঘণ্টা আগে ফারিয়াস বসুন্ধরায় যোগ না দিয়ে নাম লেখান এক ইরাকি ক্লাবে। ফলে হেড কোচ ছাড়াই আল-কামারাহর মুখোমুখি হতে হয়। কামারাহর আছে উজ্জ্বল ঐতিহ্য। তারা একবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রানার্সআপ হয়েছে। সেই দলকেই নাইজেরিয়ান ইমানুয়েল সানডের করা একমাত্র গোলে হারিয়ে সাফল্যের মুকুটে বসুন্ধরা যোগ করে আরেকটি পালক।

তবে এখানেই তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই তাদের। ২৮ আগস্ট হবে গ্রুপপর্বের ড্র। আর খেলা হবে অক্টোবরে। তার আগে দলটিকে আরও শক্তিশালী করে গোছানোর তাড়না আছে ক্লাব অফিশিয়ালদের। আরও আছে একজন যোগ্য কোচের হাতে দলকে তুলে দেওয়া।

মঙ্গলবার রাতে বসুন্ধরাকে গ্যালারি থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন কয়েক হাজার প্রবাসী। মাঠে বসে তাদের খেলা দেখেছেন দোহায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হজরত আলী খান। দলকে জিততে দেখে ভীষণ খুশি রাষ্ট্রদূত বুধবার দলকে অ্যাম্বাসিতে মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা কিংস বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে। আপনারা আপনাদের জার্সিতে বাংলাদেশের পতাকা বহন করছেন, যা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। আপনাদের প্রতি অকুণ্ঠ শুভকামনা থাকল।’

বসুন্ধরার ম্যানেজার ওয়াসিমউজ্জামান দিয়েছেন গ্রুপপর্বে সেরা হওয়ার প্রতিশ্রুতি, ‘আপনারা জানেন আমরা হেড কোচ ছাড়া খেলেছি। তবে যারা ছিলেন তারা অসম্ভব ভালো করেছেন। তাই ক্লাবের সবার পক্ষ থেকে কোচিং স্টাফদের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই। দোহায় হাজার হাজার প্রবাসীর ভালোবাসা পেয়ে আমরা অভিভূত। এবার আমাদের লক্ষ্য অক্টোবরে গ্রুপপর্বে সেরা হওয়া।’ দোহায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অকুণ্ঠ সমর্থনে মুগ্ধ হয়েছেন অধিনায়ক তপু বর্মণও, ‘সবার প্রথমে আমি আমার সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাই। একটা সংঘবদ্ধ দলগত চেষ্টায় আমরা ম্যাচটা জিততে পেরেছি। একই সঙ্গে সব কোচিং স্টাফ, ক্লাব অফিশিয়ালদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সবাই আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। আমরা যে কঠোর পরিশ্রম করেছি তার একটা প্রমাণ দিতে পেরেছি। তবে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই কিংসের সমর্থকদের, যারা আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন যে আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পারব। এই জয়টা ফ্যানদের উপহার দিতে চাই। আমরা যেটা চেয়েছি সেটাই ম্যাচে করতে পেরেছি। ফ্যানদের সমর্থন নিয়ে আগামীতেও এগিয়ে যেতে চাই।’

দেশে ফিরে অবশ্য বসুন্ধরার  বেশিরভাগ ফুটবলারের ক্লাব নিয়ে ভাবনার ফুরসত নেই। বড় একটা অংশকে যোগ দিতে হবে সিনিয়র জাতীয় দলে। বেশ ক’জনের অপেক্ষায় আছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এর মধ্যে আছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কিউবা মিচেলও। যদিও শোনা যাচ্ছে যুব দলের ক্যাম্পে কিউবাকে ছাড়পত্র দিতে রাজী নয় বসুন্ধরা।