‘ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে’ ২ সন্তানের জননীকে বিএনপির নেতার ‘কু-প্রস্তাব’

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ধারে ধারে ঘুরে বিচার না পেয়ে ৩-৪ মাস ধরে ঘরছাড়া অসহায় দুই সন্তানের এক জননী। এদিকে এসব বিষয়ে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ওই নারীকে ‘কু-প্রস্তাব’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়াকৈর মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর কলোহের বিষয়টি মিমাংসার জন্য বিএনপির ওই নেতার হাতে-পায়ে ধরেছি। কিন্তু তিনি মিমাংসার কথা বলে আমাকে কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার স্বামীকে দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। আমাদের শুধু তাড়িয়েই দেননি, স্বামী ও বিএনপির নেতা কছিম বলছেন আমাকে তালাক দিয়েছেন। কিন্তু তালাকের কোনো কাগজ আমি পাইনি। তবে এখন দুই ছেলে নিয়ে আমি ঘর ছাড়া। যেখানে ভাড়া থাকি সেখানে হুমকি দিচ্ছেন বিএনপির ওই নেতা।

ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার খিলপাড়া এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন আগে পাশ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার বাশঁবাড়ী এলাকার দানেছ আলীর মেয়ে মাফিয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসার জীবনে মিলন হোসেন (১৭) ও রায়হান হোসেন (৭) নামে দুই সন্তান রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে মাফিয়ার বাবার বাড়ি থেকে আড়াই লাখ টাকা নেন স্বামী সোহরাব। তিনি প্রায় দুই বছর আগে বিদেশ থেকে ফিরে স্ত্রী মাফিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। সর্বশেষ তাকে মারধর করলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি গ্রাম্য সালিশে বসলেও উপজেলা বিএনপির আহব্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ সাব্বীর আহম্মেদ কছিমের প্রভাবে তা পণ্ড হয়ে যায়।

পরে বিএনপির ওই নেতা ন্যায় বিচার করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীকে কু-প্রস্তাব দেন। রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখান। পরে তার স্বামীর মাধ্যমে সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।

এরপর ওই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেন। অভিযুক্তদের ভয়ে গত ৩-৪ মাস ধরে দুই সন্তান নিয়ে ওই নারী অন্যত্র থাকেন।

এসব বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়াকৈর মডেল প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী নারী।

ভুক্তভোগীর স্বামী সোহরাব হোসেন জানান, তাকে তালাক দিয়েছি। ওই কাগজ মাতাব্বরদের কাছে আছে।

অপর অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির আহব্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ সাব্বীর আহম্মেদ কছিম জানান, তাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। তবে আমার প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য ওই নারীকে দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছেন।

এব্যপারে স্থানীয় ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানান, ওই নারী অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে গ্রাম্য আদালতের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।