বিপিএলে চিটাগং কিংসের চুক্তি বাতিল, ৪৬ কোটি টাকা পেতে আইনি পথে বিসিবি

সাম্প্রতিক সময়ে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি চিটাগং কিংসের মালিকপক্ষ এস কিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও বিসিবিকে নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। বিপিএল ঘিরে নানা ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে দুপক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। অবশেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে চিটাগং কিংসের ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব বাতিলের সংবাদ জানালো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রাপ্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে নামার কথাও বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিপিএলের প্রথম, দ্বিতীয় এবং সবশেষ একাদশ আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব ছিল এস কিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের। তিনবারই চিটাগং কিংস নামে বিপিএলে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম দুই আসর শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিসিবির পাওনা ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা। একাদশ আসরে অংশ নেওয়ার আবে সাড়ে তিন কোটি টাকার দেনা শোধ করার স্বার্থে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব পেয়েছিল তারা। শেষ আসরেও অর্থনৈতিক লেনদেন স্বচ্ছতা আনতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। গত ২২ জুলাই ২০২৫ তারিখে পাঠানো লিগ্যাল নোটিস অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির আর এই অঙ্ক পরিশোধের যোগ্যতা নেই। তারই ধারাবাহিকতায় এলো চুক্তি বাতিলের এ সিদ্ধান্ত।

গত রবিবার ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন বিপিএলের সবশেষ আসরের রানার্সআপ দল চিটাগং কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক সামির কাদের চৌধুরি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সামির বলেছেন, বিপিএলকে বেশি বিতর্কিত করেছে বিসিবি, ‘৪৬ কোটি টাকা বকেয়া আছে এ জন্য। সকালেও আমার সঙ্গে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের একজনের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। উনি আমাকে এনশিওর করেছেন এটা শিগগিরই লিগ্যাল টিমের সঙ্গে বসে সমাধান করবে। আমিও বলেছি, আমি আমার লিগ্যাল টিম ছাড়া বসব না।’ শেষ আসরে চিটাগং কিংসের কোচ শন টেইটের পাওনা বকেয়া ছিল প্রায় ৪৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এর বাইরে ঢাকায় হোটেল শেরাটন ও সিলেটে হোটেল রোজভিউতে ভাড়া যথাক্রমে ১৪ লাখ ২৭ হাজার ১০৭ টাকা ও ১৭ লাখ টাকা এখনো বকেয়া। সেই সঙ্গে দেশি ক্রিকেটার শরিফুল ইসলামের ১০ লাখ টাকা, সরাসরি সই করানো দুই বিদেশি গ্রাহাম ক্লার্ক ও থমাস ও’কোনেলের ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং স্থানীয় টিম ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া আছে চিটাগং কিংসের।

সবমিলিয়ে বিসিবির দেখানো হিসাব অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত এস কিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের কাছে বিসিবির পাওনা রয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যার সুদ এসেছে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি টাকার কাছে। এই প্রাপ্য অর্থ ফিরে পেতে আইনি পথে এগোবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।