ব্রাজিলের ফুটবলাঙ্গনে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল। রিভার আতলেতিকো ক্লাবে দে পিয়াউইর হয়ে খেলা ব্রাজিলিয়ান কিশোর আলেক্স মারিয়ানো নাসিমেন্তো মউরাকে স্কুলে ঢুকে গুলি করে হত্যা করেছে কিছু দুর্বৃত্ত। ব্রাজিলের তেরেসিনার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এসপ্লানাদা রেসিডেনসিয়াল প্রফেশনাল এডুকেশন সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ‘জিওয়ান পিয়াউই’ জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪ আগস্ট সকালে মারিয়ানো তার স্কুলে গিয়েছিলেন। সামরিক পুলিশের বরাতে জানানো হয়, প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন যে একজন হেলমেট পরা ব্যক্তি স্কুলের দেয়াল টপকে ঢুকে অন্যদের সাহায্যে আলেক্সকে ক্লাসরুম থেকে বের করে এনে নিকটবর্তী করিডোরে অন্তত চারবার গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এই খবর তেরেসিনার স্কুল ও ক্রীড়া মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। ঘটনার পর এসপ্লানাদা রেসিডেনসিয়াল স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেয়, আর সামরিক পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটকে মরদেহ উদ্ধারের জন্য অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর স্কুল কমিউনিটিকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠায়। ঘটনার রহস্য অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
১৬ বছর বয়সী আলেক্স মারিয়ানোর পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছাত্র হিসেবে গড়পড়তা হলেও ফুটবলের প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। মারিয়ানোর এক চাচা বলেছেন, ‘আমাদের জানা মতে, তার কোনো খারাপ কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। আমরা জানি, সে ছিল ছাত্র, কোচিং করত এবং ফুটবল ক্লাব থেকে প্রস্তাবও পেয়েছিল। সে ভালো ছেলে ছিল।’
রিভার আতলেতিকো ক্লাবে দে পিয়াউই এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মারিয়ানো ছিল স্বপ্নবাজ, নিবেদিতপ্রাণ, প্রাণবন্ত ও দলীয় চেতনায় অনুপ্রাণিত এক তরুণ। তাঁর অকাল ও সহিংস বিদায় আমাদের সবার হৃদয়ে এক অপূরণীয় ক্ষত সৃষ্টি করেছে। মারিয়ানোর পরিবার যেন অকালপ্রয়াত এই কিশোরের স্মৃতিতে সান্ত্বনা খুঁজে পায় এবং এই বিশ্বাসে থাকে যে তার আলো কখনো নিভে যাবে না। এই ঘটনার ন্যায়বিচার হোক।’
তবে ‘জিওয়ান পিয়াউই’ আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। তাছাড়া ১৬ বছর বয়সী মারিয়ানোও অপরাধে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিভিল পুলিশের হত্যা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিভাগের সমন্বয়কারী উপ-কমিশনার ফ্রান্সিসকো কস্তা জানান, মারিয়ানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করেছিল এবং স্কুলে মাদকও গ্রহণ করছিল!
ফ্রান্সিসকো কস্তার ভাষায়, ‘স্কুলটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন হলেও একটি ব্লাইন্ড স্পট আছে (ক্যামেরার আওতার বাইরে)। এই জায়গাটিতেই মারিয়ানো মাদক সেবন করছিলেন। আসলে, আজ (গতকাল) সে সেখানে গিয়েছিল মাদক সেবনের জন্য। আরেকজন বাইরে থেকে এসে গুলি চালায়। এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, সেটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছি। প্রধান তদন্তকারী দানুবিও ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের সনাক্ত করেছেন এবং তাদের বক্তব্য নিয়েছেন।’