‘গাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নাই’ অতি প্রচলিত এই প্রবাদটি খুব খেটে যাচ্ছে জাতীয় দলের ক্যাম্পে। হাভিয়ের কাবরেরা পাঠশালা খুলে বসে আছেন ছাত্রের অপেক্ষায়। তবে ছাত্রের অভিভাবক (ক্লাব) সবাই এখনই গুরুমশাইয়ের হাতে তুলে দিতে চাইছেন
না তাদের স্নেহের সন্তানদের (পড়ুন খেলোয়াড়দের)। তাই আধা খেঁচড়া পাঠশালায় চলছে কাবরেরা পাঠ।
ঢাকা স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বরে নেপালে প্রীতি সফর উপলক্ষে জাতীয় দলের প্রস্তুতি। প্রথম দিনে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা মাত্র ১২ জন ফুটবলার পেয়েছেন। অথচ এই সফরের জন্য আগেই তিনি চূড়ান্ত করেছিলেন ২৪ জনের দল। শুক্রবার বসুন্ধরা কিংসের ১০ ফুটবলারের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ম্যানেজার আমের খান। শিরোপায় চোখ রেখে দল গড়া বসুন্ধরার প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে দোহায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ম্যাচ জিতে আসা দলটি তাই জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ১০ ফুটবলারকে আগাম ছাড়ছে না জাতীয় দলের ক্যাম্পে। ফিফার বেঁধে দেওয়া সময়েই খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র দেবে তারা। এর আগে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের ক্যাম্পে যুক্তরাজ্য
প্রবাসী তরুণ ফরোয়ার্ড কিউবা মিচেলকেও ছাড়েনি ক্লাবটি।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে বসুন্ধরা আগাম ফুটবলার না ছাড়ার পেছনের কারণটা অযৌক্তিক বলার সুযোগ নেই। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই এ ব্যাপারে তারা ভীষণ সতর্ক। প্রাক-মৌসুমের মাঝখানে খেলোয়াড় জাতীয় দলে ছাড়ার ভুলটা তারা আর করতে চায় না। ভুল বলার কারণ বিশ্বনাথ ঘোষ। দেশসেরা লেফটব্যাক জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকাবস্থায় চোটে পড়েছিলেন। ফলে গত মৌসুমে তার সার্ভিস পায়নি বসুন্ধরা।
শুক্রবার বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনের কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বসুন্ধরার সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক। চিঠির ভাষা এমন ‘দেশের ফুটবলের উন্নয়নে বসুন্ধরা কিংস সবসময় বাফুফের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। গত ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণের বাইরে থাকলে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ছাড়া কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে খেলোয়াড়দের মধ্যে ইনজুরি প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এমন অবস্থার শিকার আমাদের খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ঘোষ। ইনজুরির কারণে তাকে আমরা গত মৌসুমে মাঠে নামাতে পারিনি। তার ইনজুরির কারণে আমাদের দল ও সে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২৫-২৬ ফুটবল
মৌসুম সামনে রেখে আমাদের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের জন্য আমাদের খেলোয়াড়দের ছাড়করণ সম্ভব হচ্ছে না বলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
বসুন্ধরার মিডিয়া ম্যানেজার মো. শিহাব রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে আমরা বাধ্য নই। আমাদের জন্য প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম অনুযায়ী যেদিন ছাড়ার তারিখ, সেদিনই আমরা খেলোয়াড় ছাড়ব।’ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে এখন রয়েছে বাহরাইনে। এই ক্যাম্পে বসুন্ধরা তাদের নয়া রিক্রুট কিউবা মিচেলকে ছাড়েনি। এ প্রসঙ্গে শিহাব বলেন, ‘কিউবাকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জন্য ডাকা হয়েছিল। বাধ্যবাধকতা নেই বলে আমরা তাকে ছাড়ছি না। তিনি আমাদের নতুন খেলোয়াড়। মাত্রই ক্যাম্পে যোগ দিয়েছে। দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটা ব্যাপার আছে। তাই এ মুহূর্তে তাকে ছাড়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’
জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা নেপালের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৬ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুটি প্রীতি ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের ১০ ফুটবলারকে ডেকেছিলেন। ডাক পাওয়া তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, মোহাম্মদ হৃদয়, সোহেল রানা, মো. সোহেল রানা, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও রাকিব হোসেন ক্লাবের সিদ্ধান্তে শুক্রবার সন্ধ্যায় যোগ দেননি ক্যাম্পে। এ ব্যাপারে ম্যানেজার আমেরের বক্তব্য, ‘বসুন্ধরার খেলোয়াড়দের আজ (গতকাল) সন্ধ্যা ৭টায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ খেলোয়াড় সেই দলের। অথচ এর কয়েক ঘণ্টা আগে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে তারা ফুটবলার ছাড়বে না। ফলে প্রথম দিন ১২ জন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে হয়েছে।’
আমের খান জানিয়েছেন, ২৪ জনের তালিকায় থাকা লেস্টার সিটির অধিনায়ক হামজা চৌধুরীর সেপ্টেম্বরের উইন্ডোতে খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। তার বিকল্প হিসেবে আলমগীর মোল্লাকে ডেকেছেন কাবরেরা। ফিফার সেপ্টেম্বর উইন্ডো খুলবে ১ তারিখ। নিয়ম অনুযায়ী এর ৭২ ঘণ্টা আগে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা তপু-রাকিবদের।