ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুরের হিলিতে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা করে। সরবরাহের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে ও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরিমান বাড়লে দাম আরো কমবে দাবি বিক্রেতাদের। এদিকে পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি নিন্ম আয়ের মানুষজন।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই আগের তুলনায় দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সেই সাথে দাম পুর্বের তুলনায় কমতির দিকে রয়েছে। দুদিন আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে আগের তুলনায় ক্রেতারা যেমন একটু বাড়তি করে কিনছেন তেমনি বিক্রি বেড়েছে দাবি বিক্রেতাদের।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হায়দায় আলী বলেন, রমজান গেল দুটি ঈদ গেল এভাবে বেশ কিছুদিন ধরেই দেশীয় পেঁয়াজের দাম ৫০টাকার মধ্যে ছিল। এতে করে আমাদের মত মানুষদের কিনতে বেশ সুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম উদ্ধমুখি হতে শুরু করেছে। ৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজ দাম বাড়তে বাড়তে ৭৫ টাকা কেজিতে উঠে যায়। পেঁয়াজ তো খুবই জরুরী নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্য প্রতিদিনই লাগে। কিন্তু এভাবে দাম বাড়তির কারনে আমাদের মত মানুষদের খুব সমস্যা হয়ে গেছিল।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ থাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকার মধ্যেই ছিল। কিন্তু বর্তমানে মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমতে শুরু করেছিল। এতে করে মোকামে প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম বাড়ছিল সেই মোতাবেক বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছিল। দাম নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে।
রবিবার (১৭ আগস্ট) থেকে হিলিসহ দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে। এমন খবরে মোকামে যারা দেশীয় পেয়াজ মজুদ করছিল তারা সেসব পেঁয়াজ বাজরে ছাড়তে শুরু করেছেন। এতে করে মোকামে পুর্বের তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। দুদিন আগেও যেখানে মোকামে প্রতিমন পেঁয়াজ আমাদের কিনতে হয়েছিল ৩ হাজার ২শ টাকা সেটি এখন কমে ২ হাজার ২শ টাকা হয়েছে। আমদানির খবরেই পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ১ হাজার টাকা করে দাম কমে গেছে। কম দামে কিনতে পারায় আমরাও এখন কম দামে বাজারে বিক্রি করতে পারছি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারি পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, কেউ যাতে কোন পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বাড়াতে না পারেন সেজন্য আমরা নিয়মিতভাবে বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করছি। তারা কি দামে পণ্য কিনছেন কি দামে বিক্রি করছেন সে সম্পর্কিত তথ্য যাচাই বাছাই করছি। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে।