কেয়ার্নসে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক সময় অজিরা ছিল বিপদে, ১৪তম ওভারে স্কোর ছিল ১২২/৬। কিন্তু তখনই এগিয়ে আসেন ‘বিগ শো ম্যান’ গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। প্রায় এক বছর ও ১১ ইনিংস পর পাওয়া তার অমূল্য টি-টোয়েন্টি ফিফটিই এনে দিল স্বাগতিকদের সিরিজ জয়ের স্বাদ।
শেষ দুটি ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ১২ রান ১২ বলে। কাগিসো রাবাদার স্পেল শেষ হয়ে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু করবিন বশ হানা দেন বজ্রপাতের মতো—দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শেষের আগের ওভারটি করেন ডাবল উইকেট মেইডেন! তাতেই ম্যাচে ফেরে উত্তেজনা। শেষ ওভারে প্রয়োজন ১০ রান, স্ট্রাইকে ম্যাক্সওয়েল। প্রথম বলে লং-অনে নিশ্চিত চার বাঁচান বশ। এরপর দ্বিতীয় বলে কভার পেরিয়ে চার, তারপর আবার রান নিতে অস্বীকৃতি। চার দরকার ছিল শেষ তিন বলে, সেখানেই ম্যাক্সওয়েল নেন দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত এনগিডিকে রিভার্স হিট করে ছক্কা তুলেই জয়ের মঞ্চ সাজান তিনি। ৩৬ বলে হার না মানা ৬২ রানের ইনিংস দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১২তম বার ম্যাচ সেরা হয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এর আগে ওয়ানডেতেও ১২বার অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়েছেন তিনি।
আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেঞ্চুরি করে জেতানো ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ২৬ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে ১৭২ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাড়া করতে নেমে ৮ ওভারে অধিনায়ক মিচেল মার্শের সঙ্গে ৬৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে দিয়ে যান ট্রাভিস হেড। ১১তম ওভারে আরো ৩ উইকেট পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ৮৮ রানের মধ্যে। ১৪তম ওভার ট্রাভিস হেড ও অ্যারন হার্ড আউট হয়ে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় অজিরা। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে ম্যাক্সওয়েল রান করে এগিয়ে নিয়ে যান স্বাগতিকদের। ৩০ বলে ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি করা ম্যাক্সওয়েল অস্টম ব্রাউন্ডারি পিটিয়ে এনে দেন জয়। টিম ডেডিডের বিদায়ের পর দলের দরকারি ৫৩ রানের ৪৬-এই এসেছে ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে।
ম্যাক্সওয়েলের ২টিসহ এই সিরিজে ২৮টি ছক্কা হাকিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২৫ এ ৮ ম্যাচে তাদের হাকানো ছক্কার সংখ্যা ৯২ ছক্কা। প্রতি ৯.৫ বলে একটি ছক্কা। একমাত্র উইন্ডিজই ২০২৩ সালে কাছাকাছি যেতে পেরেছিল এই হারের। সেবছর ১৩ ম্যাচে ১৫৭ ছক্কা হাকিয়েছিল ক্যারিবীয়রা প্রতি ৯.২ বলে এক ছক্কা হারে।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ ম্যাচ শেষে বলেন, “ম্যাক্সি যেভাবে দলকে টেনে নিল, সেটা অসাধারণ। ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়, সবসময় দলের জন্য খেলতে চায়।”
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম মনে করেন, “খুব কাছাকাছি ছিল খেলা। ছোট ছোট ব্যবধান আমাদের হারিয়েছে। তবে দলে ব্রেভিসের মতো প্রতিভা থাকায় ভবিষ্যতের জন্য আমরা আশাবাদী।”
সিরিজের সেরা হয়েছেন টিম ডেভিড, আর ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের হাতে।