চিকিৎসকদের নিয়ে মন্তব্য

আইন উপদেষ্টাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউমব

চিকিৎসকদের নিয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর সম্মিলিত জোট ‘ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশনস অব বাংলাদেশ’ (ইউমব)। সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টাকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
 

সংগঠনটি বলেছে, দায়িত্বশীল একটি অবস্থান থেকে কোনো প্রকার তথ্য-উপাত্ত-প্রমাণ ব্যতীত এমন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান জনরোষ তৈরি করবে।

রবিবার (১৭ আগস্ট)  সংগঠন এক প্রতিবাদলিপিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

এর আগে  শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে শহিদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন উপদেষ্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, চিকিৎসকরা কি ওষুধ কোম্পানির দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করছেন? বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএইচসিডিওএ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও সাধারণ সভা উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
 
আইন উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পরপরই দেশজুড়ে চিকিৎসক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। শনিবার রাতেই বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব ও আজ রবিবার বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম পৃথক বিবৃতিতে উপদেষ্টার বক্তব্যের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

আজ ইউমবের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়,  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে এবং যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় চিকিৎসকরা জীবন বাজি রেখে সেবা প্রদান করেছেন। হাজারো প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও দেশের চিকিৎসকবৃন্দ সর্বত্র সর্বাবস্থায় চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছেন। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ঢালাওভাবে অযাচিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আমাদেরকে ব্যথিত করেছে।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবকালীন সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আহতদেরকে চিকিৎসা দিয়েছেন এ দেশের চিকিৎসকরাই। বিপ্লবের ফলে গঠিত সরকারেরই একজন উপদেষ্টা এহেন অবমাননাকর বিবৃতি দিবেন, এটা আমরা কেউই আশা করিনি।

ইউমব প্রতিবাদলিপিতে বলে, দেশের স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা অগণিত, এগুলোর সমাধান অত্যন্ত জরুরী। সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা সর্বজনস্বীকৃত এবং সম্মানজনক। কিন্তু, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধানের নামে শুধু চিকিৎসকদেরকে দোষ দেয়ার মাধ্যমে দেশের হাজারো চিকিৎসকের আত্মত্যাগকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।