বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়া প্রত্যাবর্তন মুনরোর

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্সে কলিন মুনরোর ফেরাটা হলো দুর্দান্ত। ২০২২ সালে শেষ সিপিএল খেলেছিলেন। তবে ফিরে এসে প্রথম ম্যাচেই দেখালেন পুরনো রূপ। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের বিপক্ষে মাত্র ৫৭ বলে খেলেন রেকর্ড গড়া ১২০ রানের ইনিংস। ট্রিনবাগোর ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ এটি। তার সেই ইনিংস ভর করে টিকেআর তোলে তুলেছিল ২৩১ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ার পর ম্যাচ জেতে ১২ রানে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও বিশ্বজুড়ে টি–টোয়েন্টি লিগে এখনও দাপট দেখাচ্ছেন মুনরো। চার বছর পর টি–টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। ইনিংস শেষে ব্যাট ছুড়ে উদযাপন করলেন এবং দুই হাত তুলে উল্লাসে ভাসলেন। শেষবার তিনি সিপিএলে খেলেছিলেন ২০২২ সালে সেন্ট লুসিয়া কিংসের হয়ে। এবার মাত্র এক ইনিংসেই প্রায় তার আগের পুরো মৌসুমের রানকে (১৭২) ছুঁয়ে ফেললেন।

মুনরোর ব্যাট থেকে আসে ১৪ চার ও ৬ ছক্কা—যা ট্রিনবাগোর মোট ৩৩ বাউন্ডারির ৬০ শতাংশেরও বেশি। ওপেনিংয়ে তার সঙ্গী অ্যালেক্স হেলসও ঝলক দেখান, ২৭ বলে করেন ৪৭ রান। পাওয়ারপ্লেতে দুই জন মিলে তোলেন ৭৭ রান, ৪৭ বলেই দল তিন অঙ্ক স্পর্শ করে। এতে করে সিপিএল ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ে ট্রিনবাগো।

লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরু করেছিল প্যাট্রিয়টস। কাইল মায়ার্স ও আন্দ্রে ফ্লেচারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ ওভারেই আসে ৮০ রান। তবে তাদের জুটি ভাঙতেই ছন্দ হারায় রান তাড়া। ট্রিনবাগোর স্পিনাররা ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। আকিল হোসেন ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। উসমান তারিক দারুণ বোলিং করে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন।

প্যাট্রিয়টস অধিনায়ক জেসন হোল্ডার চেষ্টা করেছিলেন। মাত্র ২২ বলে করেন ৪৪ রান। কিন্তু দলের অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ৪৩ রান প্রয়োজন হয় শেষ ওভারে। সেখানে নাটকীয়তা তৈরি হলেও জয় নিশ্চিত হয় ট্রিনবাগোর।

শেষ ওভারে টেরেন্স হাইন্ডস প্রথম বলে একটি সিঙ্গেল দিলেও পরে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার জায়গায় বল করতে আসেন মুনরো। নাসিম শাহর হাঁকানো ছক্কা, বাউন্ডারি আর ওয়াইড মিলে ওভার থেকে ৩০ রান তুললেও লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ২৩১ রানের বিপরীতে ২১৮ রানেই থামে প্যাট্রিয়টস। এই জয়ে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্সে ফেরার ম্যাচটিই স্মরণীয় করে রাখলেন কলিন মুনরো।