কিছুদিন আগেই শেষ হয়ে গেল ভারত-ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজ। তবে বড় দলগুলোর টেস্ট লড়াই যতটা উত্তেজনাকর হয়, নিচুর সারির দলের ক্ষেত্রে সেরকম হয় না। টেস্ট ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে সাবেক ক্রিকেটার থেকে বিশেষজ্ঞরা নানারকম পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান টড গ্রিনবার্গের সাম্প্রতিক মন্তব্য বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মুখ খুলেছেন সাবেক অজি পেসার মিচেল জনসন।
দ্বি-স্তর বিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেটের পক্ষে-বিপক্ষে অনেকদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এর মাঝেই সম্প্রতি গ্রিনবার্গ বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলে বসেন, টেস্ট ক্রিকেট শুধু কিছু নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমিত করা উচিত। কারণ, ছোট বোর্ডগুলো এ সংস্করণ অর্থনৈতিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম নয়। টেস্টখেলুড়ে দেশের সংখ্যা বাড়ানো ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর নয় বলেও তার মত।
গ্রিনবার্গের এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জনসন ‘দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান’-এ লিখেছেন, ‘এ ধারণা একেবারেই ভুল, বরং ছোট দলগুলোকেই সহায়তা করে এগিয়ে নিতে হবে। সমস্যার সমাধান তিন-চারটা ধনী দেশের মধ্যে টেস্ট সীমাবদ্ধ রাখা নয়। সমাধান হলো বাকিদের উঠিয়ে আনা, সহায়তা করা, খেলা ছড়িয়ে দেওয়া। এই দেশগুলোও টেস্ট খেলতে চায়, খেলোয়াড়েরা চায়, ভক্তরাও চায়। তাহলে কেন (টেস্ট ক্রিকেটকে) এত কঠিন করে তুলছি?’
৭৩ টেস্টে ৩১৩ উইকেট নেওয়া জনসন আরও বলেন, ‘আমি এমনও দেশ দেখেছি যেখানে কোটি টাকার টিভি সম্প্রচার সত্ত্ব নেই, কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি দারুণ আবেগ আছে। তাই শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো বিগ থ্রি দেশগুলোকে সরাসরি মাঠে নেমে অন্য বোর্ডগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। এর ফলে তৃণমূল থেকে ক্রিকেট বাড়বে, নতুন দর্শক যুক্ত হবে, আর দীর্ঘমেয়াদে টেস্ট ক্রিকেট বাঁচবে।’
লাল বলের ক্রিকেটকে ধনী দেশেই সীমাবদ্ধ করা হলে ধীরে ধীরে ক্রিকেটের এই প্রাচীন ফরম্যাটের মৃত্যু ঘটবে বলেও সতর্ক করেছেন জনসন, ‘টেস্ট ক্রিকেট কেবল ধনী দেশগুলোয় সীমাবদ্ধ করলে এটা ধীরে ধীরে মরে যাবে। তখন ভক্তরা মুখ ফিরিয়ে নেবে, খেলোয়াড়রা হতাশ হবে, আর দলগুলো একে একে ছোট সংস্করণে চলে যাবে, যেমনটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে ঘটেছে। টেস্ট খেলতে পারার অনুভূতি শুধু অস্ট্রেলিয়া, ভারত বা ইংল্যান্ডে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের প্রতিটি তরুণ ক্রিকেটারের মাঝেই আছে। পার্থক্য শুধু সুযোগের।’