বিজ্ঞাপনের জগতে সবচেয়ে সহজ, সস্তা এবং দ্রুত উপায়ে আপনার পণ্যর বিজ্ঞাপন ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হলো ইমেইল মার্কেটিং। আপনি কী বিক্রি করছেন সেটা কোনো বিষয় নয়। এক ক্লিকেই আপনার সার্ভিসটি সম্ভাব্য হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে। একজন ভালো ইমেইল মার্কেটার হতে গেলে আপনাকে লাখ লাখ ইমেইল সংগ্রহ না করলেও চলবে এবং হাজার হাজার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি না জানলেও হবে। আপনাকে আপনার জন্য সঠিক স্ট্র্যাটেজি এবং সঠিক মেইলগুলো বাছাই করতে হবে। আজকাল অনেকেই ইমেইল মার্কেটার পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন কেন করবেন ইমেইল মার্কেটিং
মানুষ অফিসে থাকুক, বাসায় থাকুক অথবা ভ্রমণরত অবস্থায় থাকুক সে মেইল পড়তে পারে। সুতরাং আপনার বার্তাটি খুব সহজেই পাঠাতে পারবেন। দিন দিন ইমেইল মার্কেটিংয়ের চাহিদা বাড়ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যেখানে মানুষ ০.৫৯ শতাংশ পণ্য কিনেছে সেখানে ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কিনেছেন ৪.২৪ শতাংশ।
ফেসবুক বা টুইটারের চেয়ে নতুন গ্রাহকদের জন্য ইমেইল মার্কেটিং ৪০ গুণ বেশি কার্যকর।
৭২ শতাংশ মানুষ প্রমোশনাল অফারগুলো ইমেইলে পেতে পছন্দ করেন, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষের বিজ্ঞাপন পছন্দের হার মাত্র ১৭ শতাংশ।
একটি টুইটার ক্যাম্পেইনের থেকে একটি ইমেইল ক্যাম্পেইনে ৬ গুণ বেশি ক্লিক পড়ে।
রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট ৪১ শতাংশ
(প্রতি ১ ডলার ব্যয়ে)
কীভাবে করবেন ইমেইল মার্কেটিং
ইমেইল মার্কেটিং করার জন্য প্রথমেই আপনার লাগবে মেইল লিস্ট। তো কাজটি আপনি করতে পারেন গ্রাহকদের মেইল কিনে (এখান থেকে ইমেইল লিস্ট কিনতে পারেন) অথবা নিজেই আপনার সার্ভিস নিতে আগ্রহী এমন গ্রাহকের মেইল সংগ্রহ করতে পারেন। নিচের ধারাবাহিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনিও পারেন ইমেইল মার্কেটিং করতে।
আপনার লক্ষ্য ঠিক করুন
প্রথমেই ঠিক করুন আপনি কী করতে চান? আপনি কি আপনার পণ্যর বিক্রি বাড়াতে চান? আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে মানুষকে জানাতে চান? নাকি আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনতে চান?
ইমেইল মার্কেটিং প্রভাইডার নির্বাচন করুন
আপনি কোনো ইমেইল ক্লায়েন্ট থেকে হাজার হাজার মেইল পাঠাতে পারবেন না। তাই আপনাকে কোনো ইমেইল মার্কেটিং প্রভাইডারের সাহায্য নিতে হবে। গধরষপযরসঢ়, অডবনবৎ, এবঃৎবংঢ়ড়হংব এগুলোর সাহায্য নিতে পারেন।
শুরু করুন লিস্ট বিল্ডিং
লিস্ট বিল্ডের সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন গ্রাহককে বলুন মেইলটি দিলে সে কী সুবিধা পাবে। আপনি তাকে স্প্যাম করবেন না। আপনি কতবার তাকে মেইল পাঠাবেন। আপনি তাকে কী কী ডিসকাউন্ট দেবেন। তার মেইলটি আপনার কাছে নিরাপদ।
ইমেইল সাবজেক্ট এবং টেম্পলেট
মেইলে আকর্ষণীয় সাবজেক্ট দিন। প্রয়োজন হলে ২০ মিনিট সময় নিন সাবজেক্ট লিখতে এবং রিসার্চ করুন গ্রাহক আসলেই কী ধরনের অফার নিতে চান। কারণ গ্রাহক দুই সেকেন্ডেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি আপনার মেইলটি খুলবেন কি খুলবেন না। একটি ভালো টেম্পলেট বাছাই করুন এবং সেখানে আপনার অফার সম্পর্কে কিছু তথ্য দিন।
কতবার মেইল পাঠাতে চান তা নির্বাচন করুন
আপনি কি প্রতিদিন, সাপ্তাহিক নাকি মাসে একবার মেইল পাঠাতে চান তা নির্বাচন করুন।
পর্যবেক্ষণ করুন
এই ধাপেই আপনার আসল কাজগুলো করতে হবে। এখানে দেখতে হবে আপনার মেইলের সাবজেক্ট ঠিক আছে কি না, মেইল পাঠানোর টাইমিং, ছবি অথবা ছবি ছাড়া মেইল, মেইল কি ইনবক্সে ধুঁকছে নাকি স্প্যামে যাচ্ছে। এখান থেকেই বুঝতে পারবেন আপনার গ্রাহকরা মেইল কি ফ্রিকোয়েন্সিতে পেতে চাচ্ছেন। কী কী ভুল হচ্ছে সেগুলো সংশোধন করুন।
মেইল কালেকশন চালু রাখুন
মার্কেটিং একটি চলমান প্রক্রিয়া তাই আপনাকে পুরনো গ্রাহকের সঙ্গে সঙ্গে নতুন গ্রাহকের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। তাই ল্যান্ডিং পেজ, সার্ভে টুল, পপ আপ প্লাগইন, ফেসবুক ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে মেইল সংগ্রহ করুন।