হকি এশিয়া কাপে নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিল বাংলাদেশের। মর্যাদার টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ছিল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। এমনকি শুরুর বছরগুলোতে তারা খেলত সরাসরি। এরপর বাছাই পর্ব পেরিয়ে নাম লেখাত এশিয়া কাপে। তবে ব্যত্যয় ঘটেছিল এবার। বাছাই আসর এএইচএফ কাপের ফাইনালে উঠতে না পারায় এশিয়া কাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল। যা ছিল দেশের হকি ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থতার। তবে ভাগ্য আরেকবার মুখ ফিরে তাকিয়েছে। ভারতে ২৭ আগস্ট থেকে শুরু এশিয়া কাপে খেলবে বাংলাদেশও। সুযোগটা মিলেছে পাকিস্তান দল প্রত্যাহার করে নেওয়ায়। বিশেষ বিবেচনার সুযোগ পাওয়ার খবরটি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান জানিয়েছেন গতকাল সোমবার।
গত এপ্রিলে জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এএইচএফ কাপে বাংলাদেশ গিয়েছিল আগের চার টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে। তবে এবারের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। যাদের অতীতে বাংলাদেশ হারাতে হেসেখেলে। তারাই কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। তারপরও বি গ্রুপের সেরা হয়ে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছিল মামুনুর রশীদের দল। তবে সেমিফাইনালে ওমানের সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা। জোর লড়াইয়ের পর ওমান ম্যাচটা জিতে নেয় ৫-৪ ব্যবধানে। তাতে এশিয়া কাপের ৪৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাদ পড়ে বাংলাদেশ। পরে অবশ্য তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কাজাখস্তানকে ৩-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে সেই জয়টাই বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বাংলাদেশের জন্য।
এশিয়া কাপের ১২তম আসর ভারতের বিহার রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে শুরু থেকেই এই আসরে খেলার ব্যাপারে নিমরাজি ছিল পাকিস্তান। তবে এশিয়ান হকি ফেডারেশন শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছে পাকিস্তানকে রাজি করানোর। পাশাপাশি বাংলাদেশকেও একটা আশার আলো দেখিয়ে এসেছিল তারা। বলেছিল শেষ পর্যন্ত যদি পাকিস্তান খেলতে রাজি না হয়, তবে এএইচএফ কাপের তৃতীয় হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের সুযোগ মিলতে পারে। এএইচএফ বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন সুযোগ পেলে খেলবে কিনা জানতে চেয়েছিল। তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল ফেডারেশন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সরে যাওয়া চূড়ান্ত হলে এএইচএফ ও আয়োজক ভারতীয় হকি ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশকে।
এএইচএফ-এর দেখানো আশায় আগে থেকেই হকি ফেডারেশন জাতীয় দলকে নিয়ে আসে অনুশীলনের আওতায়। সাবেক হকি খেলোয়াড় ও কোচ মশিউর রহমান বিপ্লব ও আশিকুজ্জামানের অধীনে জুনিয়র বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২১ দলের পাশাপাশি জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও ঘাম ঝরাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তারা পেয়েছে সুসংবাদ। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান জানিয়েছেন, হকি এশিয়া কাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে চলমান রয়েছে। বুধবার জাতীয় দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দুই কোচের অধীনে সিনিয়র ও জুনিয়র দলের মোট ২৬ জন অনুশীলন করছে। ভালো লাগছে যে আমরা এশিয়া কাপ খেলতে পারছি। তবে এই নিশ্চয়তাটা এক মাস আগে পেলে আরও ভালো প্রস্তুতির পরিকল্পনা করতে পারতাম।’
সম্প্রতি জুনিয়র বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞ কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যানকে নিয়োগ দিয়েছে হকি ফেডারেশন। এই কোচের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় কাজ শুরুর কথা রয়েছে। এশিয়া কাপের দুয়ার খুলে যাওয়ায় খানিকটা আফসোস হচ্ছে ফেডারেশন কর্তাদের। রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘চাইলেও ডাচ কোচকে আগেভাগে এনে দলের দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ তার ভিসাসহ আরও কিছু ব্যাপার আছে। এছাড়া বাইরে থাকা সিনিয়র অন্য কোচকে আমরা বিবেচনা করছি না কারণ দুটি দল একই সঙ্গে বিপ্লব ও আশিকের অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এশিয়া কাপে খেলা নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল (সোমবার) আমরা বিপ্লবকে বলেছি জাতীয় দলকে প্রস্তুত করার জন্য। তার অধীনেই আমরা চেষ্টা করব র্যাংকিংয়ে উন্নতি করার।’
পাকিস্তানের প্রত্যাহারে পাওয়া সুযোগটা অল্প সময়ে কতটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ, তা সময়ই বলে দেবে।