আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭ শিশু রয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান থেকে বিতাড়িত আফগান অভিবাসী। তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
মঙ্গলবার রাতে হেরাত প্রদেশে একটি ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কাবুলগামী ওই বাসে আগুন ধরে যায়। এতে বাসে থাকা সবাই নিহত হয়। অন্য দুই যানবাহনেরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে হেরাত প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আহমদুল্লাহ মুততাকি বিবিসি পশতুকে জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান অনিবন্ধিত আফগান অভিবাসীদের তাড়ানো জোরদার করেছে। তারা সংঘাত থেকে বাঁচতে দেশ থেকে পালিয়ে ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদি এএফপিকে বলেন, ‘সব যাত্রী ছিলেন অভিবাসী, যারা ইসলাম কালা শহরে (আফগানিস্তান-ইরান সীমান্তের কাছে) গাড়িতে উঠেছিলেন।’
হেরাত পুলিশ জানিয়েছে, বাসের অতিরিক্ত গতি ও চালকের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা।
আফগানিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ ঘটনা। দেশটিতে কয়েক দশকের সংঘাতে সড়ক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে ট্রাফিক আইনও কঠোরভাবে মানা হয় না।
১৯৭০-এর দশক থেকে কোটি কোটি আফগান ইরান ও পাকিস্তানে পালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের সোভিয়েত আগ্রাসন এবং ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশত্যাগের ঢল নামে।
এর ফলে ইরানে আফগান-বিরোধী মনোভাব তীব্র হয়েছে এবং শরণার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।