নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী ঘাট দখল নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশ্রাফুল ইসলাম ইমন (২৭) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে যুবদল কর্মীরা।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে চরএলাহী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত আশ্রাফুল ইসলাম ইমন চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইলের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর তিনটার দিকে চরএলাহীর সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুল মতিন তোতার ছেলে যুবদল কর্মী সাব্বিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জন হামলা চালিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ইমনকে গুরুতর জখম করে। আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চরএলাহীর চরলেংটা ঘাট দখল করে চাঁদাবাজি করে আসছেন আবদুল মতিন তোতা চেয়ারম্যানের ছেলেরাসহ তার লোকজন। বিগত ৩০ আগস্ট সন্ত্রাসী হামলায় তোতা চেয়ারম্যান মারা গেলে ওই মামলায় বিএনপির প্রতিপক্ষের লোকজনকে আসামি করে এলাকা ছাড়া করা হয়।
তোতা হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে নিয়ে এলাকায় আসলে নতুন করে দু'পক্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত রবিবার (১৭ আগস্ট) ওই মামলার আসামি চরএলাহী বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তোতার ছেলেরা। ওই ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে চরএলাহীতে বাবার হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে তোতা চেয়ারম্যানের ছেলেরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্র-ছায়ায় তারা এসব অপকর্ম করে আসছে বলে তাদের অভিযোগ।
ব্যবসায়ীরা জানান, থানায় মামলা খবরে আসামিরা প্রশাসনের উপস্থিতিতে গা-ঢাকা দিয়ে থাকে। প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে বাজারে এসে লোকজনকে শাসিয়ে যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। সন্ত্রাসীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।