ভারতের এশিয়া কাপের স্কোয়াড ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে। দুর্দান্ত ছন্দে থাকার পরও তিনি জায়গা পাননি দলে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, শ্রেয়াসকে কি টি-টোয়েন্টি দল থেকে ছেঁটে ফেলা হলো? এদিকে ছেলের এশিয়া কাপের দলে জায়গা না পাওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না শ্রেয়াসের বাবা সন্তোস আইয়ার। সেই হতাশা তিনি গোপন করেননি।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে সন্তোস আইয়ার বলেন, ‘দিল্লি ক্যাপিটালস থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স, কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে পাঞ্জাব কিংস—বছরের পর বছর সে আইপিএলে খুব ভালো পারফর্ম করে যাচ্ছে, তাও আবার অধিনায়ক হিসেবে। গত বছর ওর অধিনায়কত্বে কলকাতা আইপিএলে শিরোপা জিতেছে এবং এ বছর পাঞ্জাব ওর নেতৃত্বে ফাইনালে খেলেছে। জানি না, জাতীয় টি–টোয়েন্টি দলে ঢুকতে শ্রেয়াসকে আর কী করতে হবে!’
গত দেড় বছরে কলকাতাকে আইপিএল, মুম্বাইকে রঞ্জি ট্রফি, সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি ও ইরানি কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শ্রেয়াস। এ বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। সর্বশেষ আইপিএল মৌসুমে ১৭৫.০৭ স্ট্রাইক রেটে ও ৫০.৩৩ গড়ে করেছেন ৬০৪ রান; যা পাঞ্জাবের হয়ে সর্বোচ্চ। ১১ বছর পর পাঞ্জাবকে ফাইনালে তুলতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতে তিনি ৩৭ বলে দলের সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেছিলেন। এরপর আর ডাক পাননি টি-টোয়েন্টি দলে। এই অবহেলায় হতাশ সন্তোষ আইয়ার আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি বলছি না ওকে অধিনায়ক বানাতে হবে। কিন্তু অন্তত দলে রাখা যেত। বাদ পড়ার পরও শ্রেয়াস কখনো অভিযোগ করেনি। শুধু বলেছে—এটাই আমার কপাল। বাইরে থেকে শান্ত থেকেও ভেতরে ভেতরে সে কিছুটা ভেঙে পড়েছে।’
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে এশিয়া কাপ। পরদিন স্বাগতিক আমিরাতের বিপক্ষে অভিযান শুরু করবে ভারত। এই আসরের স্ট্যান্ডবাই দলেও নেই শ্রেয়াস। তাকে না নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার বলেছিলেন, ‘এটা না শ্রেয়াসের দোষ, না আমাদের। আসল বিষয় হলো দলে মাত্র ১৫ জনের জায়গা। এখন তাকে অপেক্ষা করতে হবে সুযোগের জন্য।’