ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে বাংলাদেশের বড় বিজ্ঞাপন ইমরানুর রহমান। তিন বছরের ব্যবধানে দেশের অন্যতম সেরা স্প্রিন্টারের খেতাব জিতেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই ক্রীড়াবিদ। ১০০ মিটারে জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন। টানা তিনবার হয়েছেন দ্রুততম মানব। ২০২৩ সালে এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ৬০ মিটারে সেরা হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া লন্ডনের একটি মিটে ১০.১১ সেকেন্ডে দৌড়ে গড়েছিলেন নতুন রেকর্ড। সেই ইমরানই গত সাত-আট মাস ছিলেন ট্র্যাকের বাইরে। চোট নিয়ে গত বছর প্যারিস অলিম্পিকে দৌড় শেষ করতে পারেননি। এরপর থেকেই ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তলপেটের পেশিতে একটা অস্ত্রোপচারও হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে না ওঠায় ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক একাধিক মিটে অংশ নিতে পারেননি। তবে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সামার মিটে অংশ নেবেন ৩২ বছর বয়সী স্প্রিন্টার। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে দৌড়াবেন ইমরানুর। এই আসরকে তিনি নিয়েছেন নিজের ফেরার মঞ্চ হিসেবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেননি ইমরানুর। তার অনুপস্থিতিতে নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইল ১০০ মিটারে ফিরে পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠত্ব। বাংলাদেশের হয়ে ২০২২ সালে খেলা শুরুর পর ইসমাইলের রাজত্বে হানা দেন ইমরান। এবারও লড়াইটা হবে দুই সতীর্থের। তবে ইমরান প্রতিপক্ষ নিয়ে একদমই ভাবছেন না। ১৫ আগস্ট ঢাকায় এসে শুরু করেছেন শেষ সময়ের প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার অবশ্য দেশ রূপান্তরের কাছে ইমরান দাবি করেন, শতভাগ ফিটনেস এখনো ফিরে পাননি। আজই তাকে দিতে হবে ১০০ মিটারের পরীক্ষা। এ ছাড়া নৌবাহিনীর হয়ে ১০০ মিটার রিলেতেও দৌড়াবেন তিনি, ‘চোটের কারণে ৬ থেকে ৮ মাস একেবারেই খেলার বাইরে ছিলাম। শেষ সাড়ে তিন মাস ধরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। শতভাগ ফিট হয়ে নামতে পারছি না। আমার আরও বেশি কন্ডিশনিং ও স্পিড ট্রেনিং প্রয়োজন। তারপরও চেয়েছি কোনো একটা অবস্থা থেকে শুরু করতে। হয়তো শতভাগ সেরা অবস্থায় নয়, তবে চেষ্টার কমতি থাকবে না।’ নিজেকে সেরা অবস্থায় পেতে তার প্রয়োজন ছিল পুরো এক বছরের পুনর্বাসন। তবে সামনে অনেক আন্তর্জাতিক আসরকে লক্ষ্য রেখে একটু আগেভাগেই ট্র্যাকে ফিরছেন তিনি, ‘এখনই আমার আন্তর্জাতিক মিটগুলো নিয়ে ভাবার সময় আসেনি। তবে এসএ গেমস তো অবশ্যই আমার প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি।’ আগামী বছর জানুয়ারিতে হওয়ার কথা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ক্রীড়া আসর। তার আগে সৌদি আরবে নভেম্বরে হবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস। সামার মিটে সেরা স্প্রিন্টারের সেই আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার কথা রয়েছে।
ইমরান নিজেকে ‘হাফ ফিট’ দাবি করলেও তার প্রধান প্রতিপক্ষ ইসমাইল মোটেও সেটা মানতে চান না। তিনি মনে করেন, ইমরান এখানে এসেছেন সেরা প্রস্তুতি নিয়েই। আর সেরা রূপের ইমরানকে হারিয়ে সেরা হওয়া ইসমাইলের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। গত মে মাসে কোরিয়ায় এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১১.০৩ সেকেন্ডে দৌড়ে হিটেই বাদ পড়েছিলেন। অথচ ফেব্রুয়ারিতে ১০.৬১ সেকেন্ডে দৌড়ে জিতেছিলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার। এশিয়ান মিটে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কোচ না থাকাকে দুষেছেন তিনি। আর সামার মিটের জন্য আড়াই মাসের মতো প্রস্তুতি নিয়ে নামার কথা জানান ইসমাইল, ‘এবার ১০০ মিটারে লড়াইটা আমার জন্য সহজ হবে না। কারণ ইমরান এই মিটকে ফেরার মঞ্চ হিসেবে নিয়েছে। এর জন্য ও দীর্ঘ সময় প্রস্তুতি নিয়েছে। ওকে হারানো যে কঠিন সেটা তো অতীতেই প্রমাণিত। ওর কাছেই তিনবার শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়েছিলাম। তারপরও আমি আমার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব।’
আজ প্রায় পাঁচশর বেশি অ্যাথলেটের অংশগ্রহণে শুরু হবে সামার মিটের ১৭তম আসর। রাজধানীর ৩০০ ফিটে ভোর সাড়ে ৪টায় ম্যারাথন দিয়ে শুরু হবে মিট। ট্র্যাক ইভেন্টগুলো হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে। আর সব থ্রো ইভেন্ট হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। অ্যাথলেটিকস থেকে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তদের এবার সম্মাননা জানানোর কথা জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম।
আর্লিং হালান্ডরা গাজাবাসীর পাশে দাঁড়ানোয় ইসরায়েলের উপহাস
ভালো নেই বিনোদ কাম্বলি; বাড়িতেই চলছে চিকিৎসা