ইরানের ব্যবসায়ী ও ৪ কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলী শামখানির ছেলে হোসেইন শামখানি এবং চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন বিষয়ক দপ্তর (এফসিডিও) জানায়, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী শামখানির ছেলে হোসেইন শামখানি ইরান সরকারের বৈরী কর্মকাণ্ডে সহায়তা ও অর্থায়ন করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাজ্য বা ইসরায়েল ও ইউক্রেনসহ অন্যান্য দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।

এফসিডিও’র এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক এবং সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আয় করা রাজস্বের ওপর নির্ভরশীলতা ইরানকে তার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সাহায্য করছে। এর মধ্যে রয়েছে এই অঞ্চলে তাদের প্রক্সি ও অংশীদারদের সমর্থন করা এবং ব্রিটিশ ভূমিতে রাষ্ট্রীয় হুমকি দেওয়া। ইরানের এই দূষিত প্রভাব ব্যাহত করা এবং ব্রিটিশ জনগণকে নিরাপদ রাখাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।’

‘হেক্টর’সহ একাধিক ছদ্মনামে পরিচিত হোসেইন শামখানিসহ মোট পাঁচজনকে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের সম্পদ হিমায়িত করা হবে এবং ব্রিটেনের কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের তাদের সাথে ব্যবসা করা নিষিদ্ধ হবে।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো হলো অ্যাডমিরাল শিপিং গ্রুপ, মিলাভাউস গ্রুপ, ওশান লিওনিড ইনভেস্টমেন্টস এবং ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কমার্শিয়াল কোম্পানি। ব্রিটেন জানিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু অংশ শামখানির হয়ে কাজ করছে এবং তারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কার্যক্রম ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

ওয়াশিংটন ২০১৮ সালের পর ইরান-সম্পর্কিত সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পরেই এই পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ছিল শামখানির ‘বৈশ্বিক শিপিং সাম্রাজ্য’ হিসেবে বর্ণিত নেটওয়ার্ক, যা ইরানি ও রাশিয়ান তেল পরিবহন করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে।

ইরানের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানির বিরুদ্ধে ২০২০ সালে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি এখনও খামেনেই’র একজন সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল