বিএনপি ৩১ দফার আলোকে রাষ্ট্র গঠন করতে চায় উল্লেখ করে দলটির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এই দেশকে সকলের জন্য নিরাপদ আবাস ভূমি হিসেবে গড়তে চাই আমরা। সেজন্য নির্বাচনের মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সকলের অংশ গ্রহণে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
আজ শনিবার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ডিইএব) যশোর জেলা শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময়সভয় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্টের রক্ত চক্ষু সহ্য করেও বিএনপির নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন। অপরদিকে একটি রাজনৈতিক দল প্রতি পদে পদে আপস করেছেন। তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ হয়েছে। যুব সংগঠন হয়েছে যুবলীগ। আর মূল সংগঠন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে চলেছেন। এটি ছিল তাদের রাজনৈতিক কৌশল?
‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই ঋণ শোধ করার দায় থেকেই যায়। ফলে তাদের আঁচলের তলে আওয়ামী লীগ আশ্রয় খুঁজবে এটাই স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সভায বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম।
ডিইএব যশোরের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফায়সাল, যশোর জেলা ছাত্র দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর ফারুক তারেক, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি, জেলা আইডিইবি সভাপতি আব্দুল সাত্তার, ডিইএব যশোর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সুমন হোসেন প্রমুখ।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় ১৯৮৬ সালে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও অপর একটি রাজনৈতিক সংগঠন। ৮৮ সালের সালের নির্বাচনকে বৈধতা দেয় এই দুই সংগঠন। ১৯৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এই দুই সংগঠন মিলে ১৭৬ দের হরতাল করেছিল। মিলেমিশে থাকার স্বভাব তাদের পুরাতন। তাই এদের মোকাবেলায় আমাদের সুসংগঠিত থাকতে হবে।
তার ভাষায়, বিএনপি চাই একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ যে রায় দেবে তা আমরা মাথা পেতে নেব। বিএনপির কোনো অনৈতিক সুবিধা নিতে চায় না। বিএনপি বিশ্বাস করে, হৃদয় ধারণ করে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে গঠনে বিএনপি ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চায়।