ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল কাইয়ুম (৪৫), চাচা রাশিদ (৪৭), রহমান (৫২) ও হত্যা মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহার ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-মানববন্ধন হয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুল কাইয়ুম শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলে হত্যার বিচার চাওয়া আমার জন্য অভিশাপ হয়ে গেছে। এ কারণে আমার পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে আসামি করে একের পর এক মামলা হচ্ছে। সাক্ষীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করায় আমরা আতঙ্কগ্রস্ত, ভীত ও চরম হয়রানির শিকার হয়েছি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের পরে আসামিদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া ও লুটপাটের অভিযোগ এনে ৪টি মামলা হয়। সোনাকান্দি গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী জড়িনা খাতুন বাদী হয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। এছাড়াও হত্যা মামলার আসামি আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী মোছা. কল্পনা বাদী হয়ে হত্যা মামলার বাদী মো. আব্দুল কাইয়ুমকে প্রধান আসামি করে ৪নং আমলি আদালতে মামলা করেন। একই আদালতে মাসুদ রানার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাদী ১টি ও কামরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. জোসনা আক্তার বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
গত ৮ আগস্ট মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সহনাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. এবি সিদ্দিক। ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আল মাসুদ রতনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন নিহত হুমায়ুনের বাবা আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন আহাদ, বিএনপির সদস্য আবুল খায়ের, সহনাটী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির সাইদুর রহমান এমদাদ, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সহনাটী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পাছার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ মিয়া, ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা শামীম চিশতী, সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. চান মিয়া, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম, ডা. উসমান আলী, সুলতান মিয়া প্রমুখ।
গত ১৩ জুন সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরকে (২২) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা আব্দুল কাইয়ুম বাদী হয়ে ১৬ জুন গৌরীপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. বাদল মিয়া (তোতা মিয়া), মো. রাশিদুল ইসলা রানা (রাসু), মো. সজিব মিয়া, রবিন, মো. মেহেদী হাসান টুটুল, মো. মাসুদ রানা, মো. আব্দুল কদ্দুছ, মো. মজিবুর রহমান, মো. সোহাগ মিয়া, মো. শামছুল হক, কামরুল ইসলামের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ইসলাম জানান, মামলার অন্যতম আসামি মো. রাশিদুল ইসলা রানা রাসুকে গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হনাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, আমাদের ছাত্রদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছি। এজন্য আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকেও আসামি করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও যার ছেলে মারা গেছে তার বিরুদ্ধেও ৪টি মামলা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা।
তিনি আরও জানান, ৪টি মামলার একটি পিবিআই, একটি ডিবি, একটি সিআইডি ও আরেকটি থানায় তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডের বাদীকে ৪টি মামলাতেই আসামি করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় সোনাকান্দি গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী জরিনা খাতুন বাদী হয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সহনাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. এবি সিদ্দিককে।
তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. এমদাদুল হক, নিহতের বাবা আব্দুল কাইয়ুমকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও নিহত হুমায়ুনের আত্মীয় সুলতান উদ্দিন, হাকিম উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ুমের ফুফাত ভাই জুয়েল, চাচাত ভাই কায়েছ, হত্যা মামলার সাক্ষী মিজানুর রহমান খোকন, সোহাগ মিয়া, আব্দুর রাশিদ, এমদাদুল হক, আলী আকবর, আঞ্জু মিয়া, সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রতন, ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক বিএনপি নেতার ছেলে উমর ফারুক সোহাগ, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর (৪০), তার ছেলে রিফাত (২০), তার ছোট ভাই মেইল শ্রমিক আলী আরশাদ (৩৮), আলী ওছমান, গার্মেন্টকর্মী সোহাগ মিয়া (৩৪), মঞ্জু মিয়া, আঞ্জু মিয়া, সাদেক মিয়া, সহনাটী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এমদাদুল হকের ছোট ভাই রতনসহ ২৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়াও হত্যা মামলার আসামি আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী মোছা. কল্পনার মামলাতেও বিএনপি-জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ ২৩ জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাত ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই আদালতে মাসুদ রানার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের মামলায় ১৪ জন নাম উল্লেখ ছাড়াও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। কামরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. জোসনা আক্তারের মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রতন বলেন, ছেলের খুনের বিচার চাওয়ায় বাবাকে আসামি করা হয়েছে, যা দুঃখজনক ঘটনা।
