কুমিল্লা

এক বছরেও চালু হয়নি বিশ্রামাগার, টিকটকার-মাদকসেবীদের আড্ডাখানা

কুমিল্লার নিমসারে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বিশ্রামাগার এখন পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের বিশ্রামের জায়গা নয়, বরং এটি টিকটকার, বখাটে আর মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৩ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই বিশ্রামাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় বছরের পর বছর ফাঁকা পড়ে আছে। নজরদারির অভাবে সেখানে দিনের বেলা চলে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, ভিডিও বানানো, আর রাতে বসে গাঁজা-ইয়াবার আসর।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন গাড়ি চালানো চালকদের বিশ্রামের জন্য ২০১৯ সালে চারটি মহাসড়কে চারটি বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এরই অংশ হিসেবে নিমসারে ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয় কুমিল্লার বিশ্রামাগারটির কাজ। তবে নির্মাণ শেষের এক বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি এটি।

নিমসারের বিশ্রামাগারে একসঙ্গে ১০০ চালকের বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। আধুনিক এই ভবনে রয়েছে গোসলখানা, নামাজের জায়গা, ঘুমানোর কক্ষ, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, ক্যান্টিন ও বিনোদনের ব্যবস্থা। এছাড়া পার্কিং রয়েছে ১০০টি পণ্যবাহী গাড়ির জন্য। ট্রাক মেরামতের জন্য রয়েছে ওয়ার্কশপ।

কিন্তু এসব সুবিধা আজও চালু না হওয়ায় চালকেরা এই বিশ্রামাগার ব্যবহার করতে পারছেন না। বরং ফাঁকা পড়ে থাকা জায়গাটি বখাটেদের দখলে চলে গেছে।

প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৬ কোটি টাকা। কিন্তু সময় ও নকশা পরিবর্তনের কারণে ব্যয় গিয়ে ঠেকে ৯৬ কোটিতে। প্রথমে দুইতলা বিশ্রামাগার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও চালক-ট্রাক মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় পরে সেটি চারতলায় উন্নীত করা হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহারকারী চালকরা বলছেন, বিশ্রামাগার চালু না থাকায় তাদের বেশির ভাগ সময়ই গাড়িতেই কাটাতে হয়। দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানোয় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, বহু দূর থেকে গাড়ি চালিয়ে এসে একটু ঘুমাতে পারি না। বিশ্রামাগার দেখলে মনে হয় কত সুন্দর বানানো, কিন্তু ঢুকতেই পারি না। সেখানে তো এখন আর আমাদের জায়গা নাই, বখাটেরা দখল করে আছে।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, মাটির জটিলতা ও অতিরিক্ত পাইলিং, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে খরচ বেড়েছে। সময়ও তাই বাড়াতে হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও কুমিল্লা জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পণ্যবাহী গাড়ি এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। চালক-হেলপারদের জন্য বিশ্রামাগার চালু করা খুবই জরুরি। অথচ বিশ্রামাগারটি নির্মাণের এক বছর পরেও চালু হয়নি। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ইজারা, অপারেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ওঅ্যান্ডএম) পদ্ধতি, অথবা সরকারি ব্যবস্থাপনায় যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করা দরকার।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, নিমসারে নির্মিত বিশ্রামাগারটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে সভা করেছি। আশা করি দ্রুতই চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লোকবল সীমিত। এখন শুধু দুজন দারোয়ান রাখা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য। তবে প্রকল্প চালু হলে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন টিকটকার বা মাদকসেবীরা আর ভেতরে ঢুকতে পারবে না।