ভারতে অনুপ্রবেশে বিএসএফের হাতে আটক

ভারতের বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন এর বাড়ি নীলফামারী জেলা শহরের বেগম রোকেয়া স্মরনী সড়কের শাহীপাড়া মহল্লায়। তিনি আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আফসার আলী আহমেদের ছেলে।

বাংলাদেশের ওই পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের সাতক্ষীরা এলাকা দিয়ে ভারতের ভূখণ্ডের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর সীমান্ত প্রবেশের পর তাকে ১৪৩ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ আটক করে। 

সূত্র মতে, ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৪ (এ) ফরেনার্স আইন এবং ভারতীয় পাসপোর্ট আইনে (১২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারতের বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের (জেল হাজতে) নির্দেশ দেয় অতিরিক্ত মুখ্য বিচারক। 

পুলিশের একটি সূত্র জানায় ৪৮ বছর বয়সী আরিফুজ্জামান রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসিপি) পদে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশেই কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় অবস্থিত এপিবিএন-২-এ বদলি করা হয়। সেখানে তিনি গত বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর ১৪ অক্টোবর থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে হাজির না হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই থেকে নিখোঁজ ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। 

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে গত বছরের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আবু সাঈদ। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু সাঈদের যেখানে মৃত্যু হয়েছিল সেই সেক্টরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে কর্মরত ছিলেন গ্রেপ্তারকৃত এই সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা যায়, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা ভাদিয়ালী সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বসিরহাট মহাকুমার স্বরূপনগর থানার সীমান্ত গ্রাম হাকিমপুর। বৃষ্টির মধ্যে কাটা তার বিহীন সোনাই নদী পার হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভারতে প্রবেশ করেন শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে। সীমান্তের ওপারে ভারতের হাকিমপুর সীমান্ত চৌকির কাছে ঘোরাঘুরি করার সময়ে বাংলাদেশি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে বিএসএফ। পরে আটককৃত পুলিশ কর্মকর্তাকে স্বরূপনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

সূত্র আরো জানায়, আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত। এদিকে, ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানের আটকের বিষয়টিও প্রচার করেছে। 

ভারতে আটকের পর নীলফামারীতে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ওরফে জীবনের জীবনবৃত্তাত্ব সংগ্রহ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাবা মরহুম আফসার আলী আহমেদ ১৯৭০ সালে মেম্বার অব ন্যাশনাল এসেম্বলি (এমএনএ), ১৯৭২ সালে এমসিএ ও ১৯৭৩ সালে রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকে তৎকালীন নীলফামারী মহকুমা থেকে বর্তমান জেলা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মহকুমা ও জেলা আওয়ামী লীগে ৩৪ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা। ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল আফসার আলী আহমেদ  মৃত্যু বরণ করেন।