মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে লাল শাপলা

বাংলাদেশে এখন বইছে শরৎকাল। যদিও শরৎকাল তারপরও বর্ষার স্নিগ্ধতার রেশ এখনো রয়েছে প্রকৃতিতে খালে-বিলের থইথই পানিতে ফুটে থাকা শাপলা ফুলে। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতুরপুর গ্রামের শেখ বাড়ির টোডা শাপলা বিলে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা বিজয়নগর উপজেলা। কৃষিতে সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের নানা রকম ফুল ফল ও সবজি উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে বিজয়নগরে বাণিজ্যিকভাবে লিচু, চায়না কমলা, গ্রিন মাল্টা উৎপাদন দিন দিন বেড়ে চলছে। এদিকে ফলের মৌসুমে এক পর্যটন এলাকায় পরিণত হয় বিজয়নগর। ওই সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের মিলনমেলা ঘটে। বর্তমানে বিজয়নগর উপজেলায় টোডা বিলে লাল শাপলায় বর্ণিল সাজে সেজেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। নতুন পর্যটন স্পষ্ট হিসেবে পরিচিত পেতে যাচ্ছে এ লাল শাপলা বিল। বিলে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকৃতি প্রিয় মানুষরা আসছে।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিদিন ভোরে  প্রকৃতিপ্রেমীরা ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসছেন ছতুরপুর  এলাকার শেখেবাড়ি টোডা  বিলে। কেবল সৌন্দর্য উপভোগই নয় এই লাল শাপলা হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের জীবিকার উৎসও। এ বিল থেকে শাপলা ও শালুক আহরণ করে হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে কেউ কেউ।  তবে বিলে নৌকা না থাকায়  আগত দর্শনার্থীরা বিলে তেমন ঘুরতে পারছে না। পাড় থেকে দাঁড়িয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থী সুমন বলেন, আমি বন্ধুদের সঙ্গে এখানে লাল শাপলা দেখতে এসেছি। দেখে অনেক ভালো লাগল। তবে বিলে নৌকা না থাকায় বিলের মধ্যে ঘুরতে পারছি না। যদি বিলে ঘোরা যেত তাহলে আরও ভালো লাগত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা বলেন, আমি এখানে প্রথম এসেছি। বিলের শাপলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। বিলের মাঝখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা ভালো হলে আরও দর্শনার্থী আসবে। দর্শনার্থী নাসরিন জাহান বলেন, বিলে এত লাল শাপলা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। পুরো বিল যেন লাল শাপলায় ভরে আছে। হাজার হাজার লাল শাপলা ফুল ফুটেছে। প্রকৃতি যেন অন্যরকম সাজে সেজেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে।