প্রোটিয়াদের বড় লজ্জা

ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ ও ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটিং তাণ্ডবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে রেকর্ড গড়ল অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ে প্রোটিয়াদের সামনে ৪৩২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল তারা। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেমে যায় মাত্র ১৫৫ রানে। ফলে ২৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জেতে অস্ট্রেলিয়া, যা তাদের ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। সিরিজ অবশ্য শেষ হয়েছে ২-১ ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষেই। তবে এই জয়ে নিজেদের ঘরের মাঠে কখনো ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ না হওয়ার রেকর্ডটা অক্ষুণœ রেখেছে অজিরা।

প্রথম দুই ম্যাচে ২০০ রানের নিচে গুটিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা শেষ ম্যাচে হাজির হন একেবারেই ভিন্ন রূপে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মার্শ, যা তার নেতৃত্বে প্রথমবার। সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন তারই উদ্বোধনী সঙ্গী হেড। দুই ওপেনার ৩৪ ওভারের বেশি সময় ধরে ব্যাট করে গড়ে তোলেন ২৫০ রানের জুটি, যা অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। হেড ৮০ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি, খেলেন ১৪২ রানের দারুণ ইনিংস। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক মার্শও পিছিয়ে ছিলেন না। ১০৫ বলে তিন অঙ্ক ছোঁন তিনি।

দুই ওপেনার আউট হওয়ার পর আসে ক্যামেরন গ্রিনের বিস্ফোরণ। ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে প্রমোশন পাওয়া গ্রিন শুরুতে সময় নিলেও এক সময় ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। মাত্র ২৮ বলে ৫০ করার পর ৪৭ বলেই হাঁকান তার ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এটি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ওয়ানডে শতক। এই রেকর্ড গড়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১১৮ রানে। তার সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারি যোগ করেন ৫০ রান। দুজন মিলে ৮২ বলে গড়েন ১৬৪ রানের বিধ্বংসী জুটি। শেষ ১০ ওভারে আসে ১২৬ রান, আর অস্ট্রেলিয়া থামে ২ উইকেটে ৪৩১ রানে। এক ইনিংসে শীর্ষ তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরি করার ঘটনা ঘটল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো। এর আগে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাই ওয়ানডেতে এমন কীর্তি গড়েছিল, ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

৪৩২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। শন অ্যাবট ও জেভিয়ার বার্টলেট দ্রুত তুলে নেন টপ অর্ডারের চার উইকেট। এরপর পাঁচ উইকেট নিয়ে বাকি কাজটা শেষ করেন মাত্র ২২ বছর বয়সী তরুণ স্পিনার কুপার কনলি। এতে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন কনলি। ২০২৩ সালের পর প্রথম কোনো অস্ট্রেলিয়ান বোলারের ওয়ানডেতে ফাইফার নেওয়ার ঘটনা এটি। সেই সঙ্গে স্পিনারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৫ ওভার খেলেই ১৫৫ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচ দিয়ে সিরিজ শেষ হলো ২-১ ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে। তবে অস্ট্রেলিয়ার এ জয়টি অনেক বেশি স্মরণীয় তিন সেঞ্চুরি, তরুণ স্পিনারের রেকর্ড পাঁচ উইকেট এবং প্রোটিয়াদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হারের সাক্ষী হয়ে থাকল ম্যাককে।