পারমাণবিক আইসব্রেকারে প্রথম নারী ক্যাপ্টেন মারিনা

সম্প্রতি রাশিয়ার পরমাণু শিল্পের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনের সুচনাকারী কনসার্ট ‘স্বপ্নবাজদের যুগ’ চলাকালে ‘ইয়ামাল’ পারমাণবিক আইসব্রেকারে ক্যাপ্টেন হিসেবে মারিনা স্টারোভয়তোভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনিই বিশ্বের প্রথম নারী যিনি পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকার পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্ব পেলেন। মুরমান্সক এটমফ্লোটের প্রেসিডেন্ট এমিরেটাস আলেক্সান্ডার বারিনোভ আনুষ্ঠানিকভাবে মারিনাকে ক্যাপ্টেন ব্যাচ পরিয়ে দেন।

মারিনা তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, ক্যাপ্টেন হিসেবে পারমাণবিক আইসব্রেকার বহরের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে ক্রু এবং আইসব্রেকারের যথাযথ দেখভাল করাটাকে আমার সর্বোচ্চ মিশন বলে বিবেচনা করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তা যথাযথভাবে রক্ষা করতে সমর্থ হব।

মারিনার ক্যারিয়ার যথেষ্ট অনুপ্রেরণার এবং অনেকটা ব্যতীক্রমধর্মীও বটে। ব্রায়ান্সক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন লাভের পর তিনি গ্রামের একটি স্কুলে রুশ ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। মুরমান্সক শিপিং কোম্পানিতে নারী ক্রু নিয়োগের খবরে তিনি এই পেশায় যোগদানে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

মারিনা রাশিয়ার এডমিরাল এস.ও মাকারোভ রাষ্ট্রীয় মেরিটাইম একাডেমি থেকে নেভিগেশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করেন। দুই দশকের অধিক সময় ধরে তিনি মেরিটাইম প্রফেশনে যুক্ত আছেন, যার মধ্যে পরমাণু জাহাজ বহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পেশাগত জীবনে তিনি অসংখ্য সম্মাননা ও স্বীকৃতি লাভ করেন, যার মধ্যে রয়েছে রসাটমের সার্টিফিকেট অফ মেরিট এবং রুশ প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা পত্র।