ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি সেতু ভেঙে মাটি ভরাটের অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নাউরী গ্রামের ইকোরিয়া কান্দা নামক স্থানে এলজিইডির একটি সড়কে থাকা প্রায় ৫০ বছর পূর্বের একটি সেতু ভেঙে মাটি ভরাটের কাজ করছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ ইমদাদুল হক মিলন। এ সময় ঈশ্বরগঞ্জ এলজিডি অফিসের সিইও নাঈমকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলেই তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি দেখতে এসেছি, বিস্তারিত স্যার বলতে পারবেন।
এলাকাবাসী জানান, সেতুটি দিয়ে আসপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় হাজার খানেক কৃষকের কয়েক শ একর জমির পানি নিষ্কাশন হয়। সেতুটিতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কয়েক শ একর জমির ফসলসহ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারি নাউরী, ইকরিয়া কান্দা, নয়াপাড়াসহ আসপাশের বেশ কয়টি গ্রাম।
নাউরী গ্রামের কৃষক শাহজাহান মন্ডল বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এই সেতু দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানি নিষ্কাশন চলমান রয়েছে। হঠাৎ করে সেতুর সামনের জমিতে বিএনপি নেতা শেখ ইমদাদুল হক মিলন মাটি ভরাটের চেষ্টা করে। এলাকাবাসী বাধা দিলেও সে কারো কথা শুনেননি। আজ সোমবার সকাল থেকে তার লোকজন মাটি ভরাট ও সেতু ভাঙা শুরু করে। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশকে অবগতি করলে পুলিশ এসে মাটি ভরাট ও সেতু ভাঙার কাজ স্থগিত করেন।
শেখ ইমদাদুল হক মিলন বলেন, জমিটি মাসেক খানিক আগে ক্রয় করেছি। বাড়ি নির্মাণ করতে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। সেতু ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এলজিইডি অফিসের অনুমতি নিয়েছি। এলজিইডি অফিস সবই অবগত।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, আমি সেতু ভাঙার বিষয়টি শুনে সেখানে নাঈমকে পাঠিয়েছি। ব্যাক্তি মালিকাধীন জায়গায় মাটি ভরাটের বিষয়ে আমি তো তাকে কিছু বলতে পারি না। তবে তাকে আমি পানিষ্কাশন প্রবাহ ঠিক রেখে কাজ করতে বলেছি। সেতু ভাঙার কথা বলিনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, সরকারি রাস্তা কেটে ও স্থানীয় কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনের সেতু ভেঙে মাটি ভরাটের বিষয়ে এলাকা থেকে ৯৯৯ কল আসে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে কাজ বন্ধ করে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।