অল্প পুঁজির লাভজনক ব্যবসা

অল্প টাকায় আরম্ভ করা ছোট ব্যবসা সবসমই ক্ষুদ্র নাও থাকতে পারে। সময়ের ব্যবধানে ক্ষুদ্র ব্যবসা একদিন বড় হয়ে উঠতেই পারে। কিন্তু তার জন্য আপনার নিজের কাজের ওপর মন, কাজ করার ইচ্ছা এবং ধৈর্যশক্তির প্রয়োজন হবে। তাহলেই, আপনি নিজের ক্ষুদ্র ব্যবসাকে বড় করে তুলতে পারবেন।

মোবাইল রিপেয়ারিং

যারা মোবাইল রিপেয়ার করেন তাদের চাহিদা অনেক। কারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের ফোনের সমস্যা লেগেই থাকে। আপনি যদি মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের কাজটি শিখে দোকান দিতে পারেন তাহলে প্রতি মাসে ভালো উপার্জন করতে পারবেন। মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের কাজ শুরু করতে বেশি পুঁজির প্রয়োজন হয় না। আপনাকে মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের বেসিক course করতে হবে যেটা ৩ থেকে ৪ মাসই লাগবে। আপনি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কোর্সটি করতে পারবেন। আপনি যদি চান তাহলে youtube-এ ভিডিও দেখে ফ্রি-তে মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের

কাজ শিখতে পারবেন।

নিজের রিপেয়ারিং ব্যবসার জন্য একটি দোকান দিতে হবে। মনে রাখবেন, মোবাইল রিপেয়ারিং ব্যবসার জন্য আপনার বড় দোকানের প্রয়োজন হবে না।

দোকান নেওয়ার পর আপনার টাকার প্রয়োজন হবে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য। মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের কাজ করার জন্য আপনার কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন যেগুলো ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ভেতরে হয়ে যাবে। তাই, এই মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের ব্যবসা আপনি ২০ হাজার টাকায় শুরু করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

ফুলের দোকান

শহরে ফুলের চাহিদা থাকে কমবেশি সবসময়। ফুলের দোকানের ব্যবসা অনেক লাভজনক। আপনি অনেক রকমের ফুল গাছ এবং ফুল নিজের দোকানে রেখে সেগুলো বিক্রি করতে পারেন। অনেক কম টাকায় ফুলের দোকান দিয়ে ফুল  পাইকারিতে ফুল কিনে বিক্রি করা যায়। এই ব্যবসাটা অনেক কম লোকেরা করে আর তাই এর চাহিদা বেশি লাভও হয়। এ ধরনের দোকান দিতে অনেক বেশি টাকারও দরকার হয় না। সিজনাল ফুল কিনে তা দিয়ে তোড়া, মালা, ডেকোরেশন পিস বানানো শিখতে হবে। ফুলের দোকানের ব্যবসা কম টাকাতে অনেক লাভের ব্যবসা হয়ে দাঁড়াবে।

ব্লগ বানিয়ে

আপনি যদি ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসা করতে চান তাহলে ব্লগ ব্যবসা আপনার জন্য অনেক ভালো। ব্লগ বানিয়ে নিজের ঘরে বসে কাজ করে টাকা আয় করছেন। আপনি ব্লগিং-এর মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। আর, যদি আপনার ব্লগ লোকেদের ভালো লাগে এবং ব্লগটি যদি পরিচিতি পায় তাহলে আপনি ভালো উপার্জন করতে পারবেন।

আপনার একটি ব্লগ বানাতে হবে। যেটা আপনি ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি-তে বানিয়ে নিতে পারবেন। তারপর আপনার নিজের ব্লগে আর্টিকেল লিখতে হবে। আপনি যেকোনো জিনিসের বিষয়ে লিখতে পারবেন আপনার যা ভালো লাগে এবং লোকেদের যা ভালো লাগে। যখন আপনি ভালো ভালো আর্টিকেল নিজের ব্লগে লিখবেন তখন google এবং yahoo-এর মতো সার্চ engine থেকে আপনার ব্লগে ভিজিটর বা ট্রাফিক আসবে। আর, যখন একটু ভালো সংখ্যাতে আপনার ব্লগে traffic বা visitors আসবে তখন আপনি Google adsense এর দ্বারা নিজের ব্লগে বিজ্ঞাপন লাগিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন। এখন অনেক লোক ব্লগ এবং Google adsense  এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন। আপনি এই অনলাইন ব্যবসাটি এক টাকা খরচ না করেই আরম্ভ করতে পারবেন। অনেক ধরনের পেশাজীবী, ছাত্র, গৃহিণী ব্লগ করে উপার্জন করছেন।

মোবাইল রিচার্জের দোকান

আপনি যদি খুব অল্প টাকায় ব্যবসা করতে চান তাহলে এলাকায়, কিংবা জনবহুল স্থানে ছোট্ট টং দোকান দিয়ে মোবাইল রিচার্জ দোকান শুরু করতে পারেন। এখনো অনেক মানুষ দোকানে গিয়ে মোবাইল রিচার্জ করেন। এই ব্যবসাটি অনেক কম পুঁজিতে এবং অনেক ছোট দোকান নিয়ে আরম্ভ করতে পারবেন। আপনার মোবাইল রিচার্জের দোকান দিতে কেবল ১০ থেকে ১৫ হাজার খরচ হতে পারে।

আপনি দেশের জনপ্রিয় মোবাইল কোম্পানির রিচার্জ কার্ড রাখার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস বা বিদ্যুতের প্রিপেইড রিচার্জ করারও ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে আপনার অতিরিক্ত উপার্জন হবে। তা ছাড়া পোস্টপেউড বিল জমা করা, মোবাইলের কভার, হেডফোন, চার্জার এবং মোবাইলের অন্যান্য এক্সেসরিজ নিজের দোকানে রাখতে পারেন। শুরুতে যখন মোবাইল থেকে আপনার ভালো উপার্জন শুরু হবে তখন আস্তে আস্তে ছোটখাটো মোবাইল এবং আরও অন্য মালপত্র দোকানে রাখা শুরু করে দেবেন।