ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া ও কসবাকে সরাসরি সংযোগ দেওয়া প্রধান সড়কের একটি সরু সেতু দীর্ঘদিন ধরে চার লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজয়নগরের চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে।
বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ফোরলেনের কাজ চলায় কুমিল্লাগামী অনেক গাড়িই বিকল্প হিসেবে এ সড়ক ব্যবহার করছে। পাশাপাশি আখাউড়া স্থলবন্দরের ভারী যানবাহনও চলাচল করে এখানে। ফলে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।
কিন্তু উপজেলার সিঙ্গারবিল এলাকায় অবস্থিত পুরনো ও সংকীর্ণ সেতুটি এ পথের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। সেতুটি এতটাই সরু যে, একসঙ্গে দুটি গাড়ি পারাপার হতে পারে না। ফলে প্রায়ই যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
এ যানজট পেরোতে কখনও এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। এতে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সিএনজি চালক শামসুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজটাই সমস্যা। এত সরু যে উল্টো দিক থেকে গাড়ি এলে সবাই দাঁড়িয়ে পড়ে। এতে সময়ও যায়, আয়ও কমে।”
মাইক্রোবাস চালক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, “এ সেতুর কারণে তীব্র যানজট হয়। অনেক সময় একটি গাড়ি আটকে গেলে কয়েক ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির দুপাশের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট হলেও সেতুটি অর্ধেক প্রশস্ত। পুরনো ও জরাজীর্ণ এই সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিজয়নগরের উপজেলা প্রকৌশলী আশিকুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সিঙ্গারবিলের বিদ্যমান সেতুর স্থানে সাড়ে সাত মিটার প্রস্থের নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সদর দপ্তর থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে।