দেশ রূপান্তর : নানা কারণে মানুষ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে নানা অবৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স দেশে পাঠায়। তারা যাতে বৈধপথে পাঠাতে উৎসাহী হন, সে বিষয়ে আপনার ব্যাংক কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরণকে উৎসাহিত করতে ব্যাংকটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউজ ও স্বনামধন্য মানি ট্রান্সফার কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয় ও অংশীদারত্বমূলক চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজে ও নিরাপদে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে প্রেরণ করতে পারছেন।
ব্যাংকটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ও নিরাপদভাবে রেমিট্যান্স পৌঁছে দিচ্ছে। এক্সচেঞ্জ হাউজ ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সংযুক্ত এনপিএসবি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ২৪/৭ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা দিতে পারছেন। এ ছাড়া, ‘শাহজালাল টাচ পে’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল ও ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ এবং বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিম খুলতে পারছেন সহজেই। রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য শূন্য খরচে বা ন্যূনতম সার্ভিস চার্জে টাকা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বৈধপথে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের উৎসাহিত করছে।
তদুপরি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ব্যাংকটি বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, তথ্যসেবা প্রদান, কমিউনিটি প্রোগ্রাম এবং প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাংকিং সুবিধা ও বৈধ রেমিট্যান্স প্রেরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক একটি নিরাপদ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী রেমিট্যান্স সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সের বেশিরভাগ অর্থ ভোগবিলাসে ব্যয় হয় বলে বিবিএসের জরিপে জানা যায়। বিনিয়োগে কাজে লাগানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে রেমিট্যান্সকে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে রূপান্তরিত করতে কিছু বাস্তবমুখী ও নীতিনির্ধারক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ স্কিম চালু করতে হবে, যা তাদের অর্থের নিরাপদ ও লাভজনক ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে। ব্যাংকগুলো ‘এনআরবি বিনিয়োগ বন্ড’, দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিট স্কিম এবং সহজ শর্তে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুবিধা চালু করতে পারে। এতে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং তাদের রেমিট্যান্স ভবিষ্যতের নিরাপত্তায় কাজে লাগবে।
দ্বিতীয়ত, প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের এসএমই খাত, কৃষি, গৃহায়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগমুখী করার জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া উচিত। এতে তারা ভোগবিলাস থেকে বেরিয়ে উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত হতে আগ্রহী হবেন।
তৃতীয়ত, হাউজিং, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ বা স্টার্টআপে প্রবাসীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা এই খাতগুলোকে লাভজনক মনে করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান।
সার্বিকভাবে, রেমিট্যান্সকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে নীতিগত সহায়তা, আর্থিক পণ্য উদ্ভাবন এবং ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
দেশ রূপান্তর : আপনারা রেমিটারদেরকে কি বিশেষ কোন সুবিধা দেন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী রেমিটারদের জন্য সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আকর্ষণীয় সুবিধা দিয়ে থাকে, যা দেশে অর্থ পাঠানো ও আত্মীয়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ব্যাংক নিয়মিত রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য লয়ালটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে উপহার, ছাড় ও অগ্রাধিকার সুবিধা প্রদান করে।
প্রবাসীদের পরিবারের জন্য রয়েছে বিশেষ সঞ্চয় স্কিম, হজ্ব সঞ্চয় স্কিম ও হাউজিং বিনিয়োগ সুবিধা, যা সাশ্রয়ী ও ভবিষ্যৎমুখী। এ ছাড়া ব্যাংকের সব শাখায় বেনিফিশিয়ারিদের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড ফরেন রেমিট্যান্স ডেস্ক রয়েছে, যা দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করে।
দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেটি কি অব্যাহত থাকা উচিত?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : হ্যাঁ, রেমিট্যান্সে দেওয়া প্রণোদনা অবশ্যই অব্যাহত থাকা উচিত। কারণ এই প্রণোদনা প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করে, যা দেশের অর্থনীতির স্বচ্ছতা এবং স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। যখন প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠায়, তখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য কারণ, শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের মুদ্রার স্থায়িত্ব বজায় রাখে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করে। তাই এই প্রণোদনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান বাড়াতে আপনার পরামর্শ কি?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান আরও বাড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, নতুন শ্রমবাজার তৈরি এবং বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে শ্রমচুক্তি আরও জোরালো করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, বর্তমান বাজারগুলোতে দক্ষ কর্মী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে আরও আধুনিক ও মানসম্পন্ন ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক সেক্টর ভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ করা যেতে পারে। যাতে করে সরকার নির্ধারিত মজুরি নিশ্চিত না করে কোন এজেন্সি বিদেশে কর্মী পাঠাতে না পারে। এতে করে প্রবাসীদের তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী মজুরি নিশ্চিত হবে এবং দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রাখলে কর্মীরা উচ্চ আয়ের পেশায় নিয়োজিত হতে পারবেন, যা রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করবে।
তৃতীয়ত, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত, নিরাপদ এবং গ্রাহকবান্ধব করতে হবে। ব্যাংকিং চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা আরও সহজ হলে মানুষ হুন্ডির মতো অবৈধ পথে না গিয়ে বৈধপথকে বেছে নেবে।
এ ছাড়া, রেমিটারদের জন্য সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি বিনিয়োগ সুবিধা, সঞ্চয় স্কিম ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়াতে হবে, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে উৎসাহিত হয়।
সবশেষে, প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দেশ ও বিদেশে প্রচারণা চালানো জরুরি। বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর উপকারিতা তুলে ধরে প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তারা নিজে এবং পরিবারের জন্য উপকারজনক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
দেশ রূপান্তর : আপনাদের ব্যাংকে রেমিট্যান্স প্রেরক ও গ্রহীতাদের জন্য বিশেষ কোনো সেবাপণ্য চালু আছে?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে রেমিট্যান্স প্রেরক ও গ্রহীতাদের জন্য বিশেষ সেবাপণ্য রয়েছে। আমরা ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৪/৭ মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই টাকা প্রেরণ করতে পারি। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক মোবাইল ওয়ালেটে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধাও রয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য আরও দ্রুত ও সহজ করে তুলেছে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে চালু রয়েছে মুদারাবা ফরেন রেমিট্যান্স সেভিংস হিসাব, যেখানে তারা সঞ্চয়ের পাশাপাশি মুনাফারও সুযোগ পান। এ ছাড়াও, রয়েছে মাসিক সঞ্চয় স্কিম ও আকর্ষণীয় শর্তে ঋণ সুবিধা, যা প্রবাসী পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ব্যাংকটি প্রবাসীদের জন্য আলাদা সার্ভিস ডেস্ক পরিচালনা করে, যেখানে দ্রুত ও ব্যক্তিগত সেবা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ঝামেলাবিহীন রেমিট্যান্স গ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠাতে আরও আগ্রহী হন।
দেশ রূপান্তর : বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকার কি ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার নিশ্চয়তার জন্য প্রচ্ছন্ন নজরদারি ও তদারকি বাড়াতে হবে এবং হুন্ডি বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রেমিটারদের উৎসাহিত করতে বাড়তি নগদ প্রণোদনা ঘোষণা করা যেতে পারে, যা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করবে।
বাংলাদেশি প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোতে বাংলাদেশি মালিকানায় এক্সচেঞ্জ হাউজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রবাসে যাওয়ার আগে প্রবাসীদের এক্সচেঞ্জ হাউজ, ব্যাংক, এটিএম সেবা এবং রেমিট্যান্স -সংক্রান্ত বিষয়সমূহ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক শিক্ষার (ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি) প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে হবে। দেশের ব্যাংকগুলো তাদের প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে প্রবাসীদের মধ্যে রেমিট্যান্স সচেতনতা বৃদ্ধি ও বৈধপথে অর্থ প্রেরণের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে এবং তাদের সঞ্চয় বৃদ্ধিতেও সহায়তা করতে পারে।
বিদেশযাত্রীর জন্য বিএমইটি থেকে অনুমতি গ্রহণের আগে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক করলে তারা সহজেই বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবে। পাশাপাশি, রেমিটারদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিনিয়োগে করছাড়ের মতো প্রণোদনা দিয়ে তাদের দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ বাড়ানো যেতে পারে। এসব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
দেশ রূপান্তর : বিদেশে আপনাদের বেশকিছু এক্সচেঞ্জ হাউজ আছে। রেমিট্যান্স দেশে আনার ক্ষেত্রে সেগুলো কি ধরনের ভূমিকা পালন করছে?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : বর্তমানে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউজ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডারের সঙ্গে বৈশ্বিক রেমিট্যান্স সংগ্রহের লক্ষ্যে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। এপিআই সংযোগের মাধ্যমে এসব অংশীদার থেকে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে তা সিস্টেমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বেনিফিশিয়ারির হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকে করেছে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য।
দেশ রূপান্তর : প্রবাসীরা যাতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, সে জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : প্রবাসীদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রথমত, প্রবাসীদের জন্য ‘এনআরবি ইনভেস্টমেন্ট বন্ড’ বা ‘এনআরবি ডিপোজিট স্কিম’ চালু করা প্রয়োজন, যা তাদের নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ করে দেবে। দ্বিতীয়ত, দেশে ব্যবসা শুরু করার জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে সব প্রশাসনিক ও আইনগত কাজ দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা যাবে।
এ ছাড়া, কর সুবিধা প্রদান, জমি বরাদ্দ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ দিলে প্রবাসীরা আরও উৎসাহিত হবেন। সরকারি এই ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য বাধা কমাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান বাড়াবে। ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।