পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ৮২তম আসরের পর্দা উঠে বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায়। ইতালির ভেনিস শহর থেকে একটু দূরে লিদো দ্বীপে পালাৎসো দেল সিনেমা ভবনের সালা গ্র্যান্দেতে হচ্ছে এই উৎসব। এবারের আয়োজনে সমবেত হচ্ছেন হলিউডের হেভিওয়েট তারকারা, ইউরোপের সৃজনশীল পরিচালক ও এশিয়ার মহিরুহ নির্মাতারা। ১১ দিনের এই আয়োজনে রাখা হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, আর্ট হাউজ ড্রামা, প্রামাণ্যচিত্রসহ নামজাদা স্টুডিওগুলোর লগ্নিকৃত চলচ্চিত্রের সমাহার।
সেই সঙ্গে ছড়িয়ে থাকছে ভূ-রাজনৈতিক আবহ। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় খ্যাতিমান জার্মান পরিচালক ভেরনার হারজগের আজীবন সম্মাননা তুলে দেন ‘গডফাদার’ ট্রিলজির স্রষ্টা ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলো। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইতালিয়ান অভিনেত্রী ইমানুয়েলা ফানেল্লি। এবারের আসরে আজীবন সম্মাননায় আরও ভূষিত হবেন আলফ্রেড হিচককের মাস্টারপিস ‘ভার্টিগো’র (১৯৫৮) আমেরিকান অভিনেত্রী কিম নোভাক। প্রতিযোগিতার বাইরে নির্বাচিত “ডেড ম্যান’স ওয়্যার” ছবির পরিচালক গ্যাস ফন স্যান্ট আগামী ২ সেপ্টেম্বর পাবেন ‘প্যাশন ফর ফিল্ম’ অ্যাওয়ার্ড। উৎসবটি চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
অস্কারজয়ী ইতালিয়ান নির্মাতা পাওলো সরেন্তিনো পরিচালিত ‘লা গ্রাৎসিয়া’ (গ্রেস) প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এবারের আসরের পর্দা ওঠে। মূল প্রতিযোগিতায় বিচারকদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আমেরিকান পরিচালক আলেক্সান্ডার পেইন। তার নেতৃত্বে বিচারক প্যানেলে দায়িত্ব পালন করছেন ইরানি পরিচালক-লেখক মোহাম্মদ রাসুলফ, ব্রাজিলিয়ান অভিনেত্রী, লেখক ও চিত্রনাট্যকার ফার্নান্দা তোরেস, ফরাসি পরিচালক-চিত্রনাট্যকার স্তেফান ব্রিজে, ইতালিয়ান পরিচালক-চিত্রনাট্যকার মাউরা দেলপেরো, রোমানিয়ান পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক ক্রিস্টিয়ান মুনজিউ এবং চীনা অভিনেত্রী জাও তাও।
উৎসবের বড় আকর্ষণ লালগালিচায় যেসব তারকারা অংশ নেবেন তাদের মধ্যে জুলিয়া রবার্টস, এমা স্টোন, জর্জ ক্লুনি, ডোয়াইন জনসন, এমিলি ব্লান্ট, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড, অস্কার আইজ্যাক ও আমান্ডা সাইফ্রেডের দিকে আলাদাভাবে নজর থাকবে সবার। উদ্বোধনী দিনেই লালগালিচায় ঝলক দেখান হলিউডের খ্যাতিমান অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট। ‘আফটার দ্য হান্ট’ ছবির প্রচারের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ভেনিসের লালগালিচায় পা ফেলবেন সিনিয়র হলিউড অভিনেত্রী ও নির্মাতা জুলিয়া রবার্টস।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আলবের্তো বারবেরা জানিয়েছেন, যেকোনো মুক্ত আলোচনায় বাধা নেই তাদের। তবে লিদো দ্বীপে ইসরায়েলি নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার আহ্বানে সাড়া দিতে তিনি নারাজ। কাউকে বয়কট করার পক্ষে নয় আয়োজকরা। সমকালীন পরিস্থিতি নিয়ে সব ধরনের আলোচনার জন্য তারা দুয়ার খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কারণ এভাবেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য আলবের্তো বারবেরার।