দুই চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে জনবল সংকট চলছে। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ২৮ জনের জায়গায় মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এ ছাড়া উপজেলায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে একই অবস্থা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে ৫০ শয্যা চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে ২৮ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। এর মধ্যে ১০ জন বিশেষজ্ঞ, ১০ মেডিকেল অফিসার ও ৮ জন অন্যান্য চিকিৎসকসহ ২৮ জন অফিসার থাকার কথা। সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। এর মধ্যে আবার একজন সংযুক্ত আছেন সৈয়দ নজরুল মেডিকেল হাসপাতালে। কাজেই মাত্র দুজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। এ ছাড়া কনসালট্যান্টের মধ্যে একজনও নেই। অ্যানেস্থেশিয়া, সার্জারি, কার্ডিও, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক-কান ও গলা বিভাগে জুনিয়র কনসালট্যান্টের একজনও নেই। গুরুতর রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরসহ অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।

জানা যায়, হাসপাতালের এক্সরে মেশিন ১২ বছর ধরে নষ্ট। টেকনিশিয়ানের অভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ। হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। গাইনি বিভাগের চিকিৎসক সংযুক্তিতে সৈয়দ নজরুল মেডিকেল হাসপাতালে কর্মরত। সিনিয়র স্টাফ নার্স আছেন মাত্র ৩২ জন। নাইট গার্ড তিনজনের মধ্যে একজন আছেন। ডেন্টাল সার্জন মাত্র একজন। বাবুর্চি তিনজনের মধ্যে একজন দায়িত্ব পালন করছেন।

গত বুধবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শত শত রোগীদের জন্য মাত্র দুজন চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সবুজ মিয়া, সিদ্দিক মিয়াসহ আরও কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, তারা বিভিন্ন রোগের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসক দেখাতে এসেছেন। কিন্তু এ-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে মেডিকেল অফিসারকে দেখাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজিব বাবু বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হলে এবং ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নিশ্চিত হলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। আশা করি, অক্টোবর-নভেম্বরে জনবল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’