জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ভূমিসেবা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভবনটি এখন ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ অফিসে অর্ধশত কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন। এছাড়া সামনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে পড়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা হুমকিতে পড়েছে। ভবনটির প্রতিটি কক্ষ স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় রেকর্ড রুমের দলিল, বালাম বই, থাম বইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলাম জানান, ১৮৭৪ সালের ৮ মে এ অফিসের যাত্রা শুরু হয়। ১৫১ বছর আগে এখানকার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে তৎকালে শাহজাদপুর থানা সদরে এ অফিসটির কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি রাজস্ব আয়ের দিক থেকে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস জেলার অন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে এই অফিস থেকে। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করার পরও অফিসটির ভবনের দিকে কোনো নজর দেওয়া হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, শুরুতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটির কার্যক্রম টিনের ঘরে পরিচালিত হতো। দীর্ঘ সময় পর ১৯৮৯ সালে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে একতলা পাকা অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটির নামফলক থেকে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২০ অক্টোবর ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। ভবনটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় সংস্কার বা মেরামত না করায় প্রতিটি কক্ষের বিম ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে।

জানা গেছে, অফিস চলাকালে ছাদের ও বিমের পলেস্তারা খসে একাধিক কর্মচারী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজ করতে হচ্ছে। অফিস চলাকালে সবাই আতঙ্কে থাকেন।

নকলনবিশ আতাউর রহমান খান জানান, এখানে ৫০ জন নকলনবিশ রয়েছেন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। ভবনটির বিম ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় সব সময় তাদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

দলিল লেখকদের (মুহুরি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিদিন এই অফিস থেকে ৫০ থেকে ৬০টি দলিল সম্পাদিত হয়। এ কারণে প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ দলিলদাতা ও গ্রহীতা উপস্থিত হয়ে থাকেন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাদের সবাইকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।

সাব-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলাম আরও জানান, ‘শাহজাদপুরের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে দেড়শ বছর আগে এখানে মুন্সেফি আদালত ছিল। বর্তমানে সেই আদালত আবার এখানে ফিরে এসেছে। বর্তমানে ৭২ শতাংশ জায়গা নিয়ে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলছে। এই বিশাল জায়গার উত্তর পাশে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। ভবনটি অনেক দিন ধরেই জরাজীর্ণ। সেটি ভেঙে ফেলে পরিকল্পিতভাবে নতুন অফিস ভবন নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

গত অর্থবছরে ১০ হাজার দলিল সম্পাদিত হয়েছে জানিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সময়মতো সংস্কার বা মেরামত না করায় বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবনটির প্রতিটি রুম স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়েছে। পলেস্তারা খসে ভবনের ছাদে ও বিমে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রেকর্ড রুমে দলিলসহ, সূচি বই, থাম বই, বালাম বই সংরক্ষণ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যাবতীয় দলিল-দস্তাবেজ ও কাগজপত্র তিন বছর পর্যন্ত এই কার্যালয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। রেকর্ড রুম অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থান। রেকর্ড রুম বর্তমানে লাইট জ্বালিয়ে ফ্যান চালিয়ে রুমগুলো শুষ্ক রাখার ব্যবস্থা করা গেলেও দলিল-দস্তাবেজ স্যাঁতসেঁতের হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভবনটি গণপূর্ত বিভাগের লোকজন পরিদর্শন করে গেলেও নতুন অফিস ভবন নির্মাণে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’