ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন একদল রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদের দাবি, দিল্লি থেকে আটক করার পর নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও তারা এখন মিয়ানমারের ভয়াবহ সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন।
জাতিসংঘ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ রোহিঙ্গাদের জীবনকে “চরম ঝুঁকির মুখে” ফেলছে।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় জানা যায়, গত মে মাসে দিল্লি থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে প্রথমে আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। এরপর বিমানে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বাসে করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয় তাদের। যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল, অনেককে হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাদের মধ্যে কয়েকজন জানান, যাত্রাপথে মারধর ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে। এক শরণার্থীর হাতে আঘাতের দাগ এখনো রয়েছে। এমনকি ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে কটূক্তিও করা হয়।
সাগরে ভেসে ওঠার পর স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করলে জানা যায়, তারা আবারও মিয়ানমারে ফিরে গেছে। বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক প্রতিরোধ গোষ্ঠীর কাছে আশ্রয় নিয়েছে তারা। কিন্তু গৃহযুদ্ধ ও সামরিক অভিযানের মধ্যে তাদের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে।
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ জানিয়েছেন, এ ঘটনার প্রমাণ তার হাতে রয়েছে। তিনি ভারতের মিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জমা দিলেও কোনো জবাব মেলেনি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ভারতে প্রায় চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা বাস করলেও সরকার তাদের শরণার্থী নয়, বরং ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বিবেচনা করে।
আটক হওয়া কয়েকজনের স্বজন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন, যাতে রোহিঙ্গাদের নির্বাসনে পাঠানো বন্ধ হয় এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তবে আদালতের এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেছেন। পরবর্তী শুনানি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন, কেউ কেউ স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, যে কোনো সময় আবারও এমনভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি, তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়াবহ নির্যাতন থেকে পালিয়ে। এখন আবারো তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিবিসি বাংলা