নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। ঘটনাটি তদন্ত করছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কেন ওই ব্যক্তি এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করায় নিহতের পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানান, দিনের নির্ধারিত সব বৈঠক শেষ হওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে। ফলে সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
ঘটনাটি তিব্বত ইস্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের দাবি, তিব্বত সাত শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং ১৯৫১ সাল থেকে অঞ্চলটি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে অনেক তিব্বতির দাবি, ইতিহাসের দীর্ঘ সময় তিব্বত কার্যত স্বাধীন ছিল। তারা বেইজিংয়ের নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও প্রতিবাদ চালিয়ে আসছেন।
অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ১৫০ জনের বেশি তিব্বতি আত্মাহুতির উদ্দেশ্যে নিজেদের গায়ে আগুন দেন এবং তাদের অনেকেই প্রাণ হারান।
চীন তিব্বতের নির্বাসিত প্রশাসন সেন্ট্রাল টিবেটান এডমিনিস্ট্রেশনকে স্বীকৃতি দেয় না। এছাড়া ২০১০ সালের পর থেকে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেইজিং কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি।