বগুড়ায় দুই শতাধিক কৃষকদের মাঝে ডালজাতীয় ফসলের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় শহরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ও কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। কৃষি ও কৃষককে এগিয়ে নিতে হলে উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদ বাড়াতে হবে। পতিত জমি, চরাঞ্চল এবং দুই ফসলের মাঝখানের সময়ে স্বল্পমেয়াদি ফসল আবাদ করলে উৎপাদন বাড়বে ও জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মাহমুদুল হাসান। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চর গবেষণা কেন্দ্র আরডিএ বগুড়ার পরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ।
তিনি বলেন, দেশে বছরে ডালের চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ টন। বর্তমানে উৎপাদন এলাকা ৭ লাখ হেক্টর, গড় ফলন ১.২৮ টন প্রতি হেক্টর। মোট উৎপাদন ৮.৫ লাখ টন হলেও প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ডাল আমদানি করতে হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়েও দেশে এখনো প্রায় ৮.৫ লাখ টনের ঘাটতি রয়েছে। চরাঞ্চলে পতিত জমিতে ডাল আবাদ করলে কৃষকদের বাড়তি আয় হবে এবং দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
এদিন সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা চরাঞ্চলের প্রায় ২০০ জন কৃষক ও কৃষাণীর মাঝে বারি মাস-৩ জাতের ডালের বীজ এবং ডিএপি, এমওপি ও জিপসাম সার বিতরণ করা হয়। এতে ৭০০ বিঘা জমিতে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ, ড. মো. মাহফুজার রহমান (ডিএলও, নওগাঁ), ডা. মো. জহরুল ইসলাম (ডিডি, এআই, বগুড়া), টেনস এগ্রো লি. এর এমডি জনাব মেহেদী হাসান পাঠান, বারি পিএসও ড. মো. শহিদুল আলম (বুড়িরহাট, রংপুর), মো. খায়রুল ইসলাম রাজু (এসএসও, বারি, রংপুর) প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলার কৃষি কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সেক্টরের কৃষিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।