নৈতিকতার লঙ্ঘনের অভিযোগে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে পদ থেকে বরখাস্ত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। অভিযোগ, থাই প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে বিতর্কিত ফোনালাপের মাধ্যমে নৈতিকতার লঙ্ঘন করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আদালত ৬-৩ ভোটে সিদ্ধান্ত দেয়— জুন মাসে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে পেতোংতার্ন ব্যক্তিগত স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের প্রতি অস্বাভাবিক আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।
সেই সময় দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল এবং পরে পাঁচ দিনের সংঘর্ষও ঘটে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘কম্বোডিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে, উত্তরদাতা বারবার তাদের ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং জনআস্থা হারিয়েছে।’
এই রায়ের ফলে এখন থাইল্যান্ডের সংসদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে পেতোংতার্নের নেতৃত্বাধীন পেউ থাই পার্টির দুর্বল জোট এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৩৯ বছর বয়সী পেতোংতার্ন ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ধনকুবের থাকসিন শিনাওয়াত্রার কন্যা ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি। তিনি গত বছর হঠাৎ আলোচনায় আসেন, যখন আদালত তার পূর্বসূরি স্রেত্থা থাভিসিনকে বরখাস্ত করে।
মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পরই সরিয়ে দেওয়া হলো পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে, যা ‘পেউ থাই’ পার্টি এবং শিনাওয়াত্রা পরিবারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালতের রায়ের পর প্রাথমিক বক্তব্যে পেতোংতার্ন বলেন, ‘প্রথমেই, বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে আমি আদালতের রায় মেনে নিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে একজন থাই নাগরিক হিসেবে আমি আমার আন্তরিকতা ও দেশবাসীর জন্য কাজ করার অঙ্গীকারে অটল।’
বিতর্কিত ফোনালাপের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আমি যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি, তা হলো মানুষের জীবন— সেনা ও সাধারণ নাগরিক উভয়ই। আমি তাদের জীবন রক্ষা করতে চেয়েছিলাম, সেটাই আমি ফোনে বোঝাতে চেয়েছি।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি যুদ্ধ থামাতে চেয়েছিলাম… এটাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।’
উল্লেখ্য, ফাঁস হওয়া ফোনালাপে সদ্য বরখাস্ত থাই প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে চলমান সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। ২০২৩ সালে পদ ছাড়লেও হুন সেন এখনো দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী।
সেখানে পেতোংতার্ন হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করেন এবং থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেনা কমান্ডারকে নিজের ‘প্রতিপক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
