ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকায় লোকালয়ে বাঘ

ফেনীর পরশুরামের দক্ষিণ কেতরাঙ্গা সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গলের বাঘ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লোকালয়ে প্রবেশ করে দিক বেদিক ছুটাছুটি করে আবার জঙ্গলের দিকে চলে যায়। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সীমান্ত এলাকায় ঘুরাঘুরি করে আবার জঙ্গলের ভিতরে চলে যায়। এ সময় তাকে শান্ত অবস্থায় দেখা যায়।

খাবারের সন্ধানে বনের বাঘ লোকালয়ে চলে এসেছে বলে ধারণা।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল করিম ও মতিউর রহমান বলেন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঘুরাঘুরি করে। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে সে খাবারের সন্ধান করছিল। দেড় ঘন্টা ঘুরাঘুরি পর সূর্য ডুবে গেলে সে আবার জঙ্গলের দিকে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে কাঁটাতারের এপাশে আরো একাধিক বাঘ থাকতে পারে।

স্থানীয় জনসাধারণের ভাষ্যমতে ভারতের অভ্যন্তরে ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে উক্ত বাঘটি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, এলাকাটি জঙ্গলাকৃত এবং জনসাধারণের চলাচল না থাকায় বাঘটি উক্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে।

জহির আহমদ নামের একজন কৃষক বলেন, ওই এলাকার তার একাধিক জমি রোপা লাগানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বনের বাঘ কাঁটাতারের এ পাশে চলে আসায় এখন জমিতে চাষাবাদের কাজে যেতে ভয় লাগছে।

বিজিবি সুত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেতরাঙ্গা বিওপির সীমান্ত পিলার-২১৭৩/এস জিরো পয়েন্টে তার কাটার বেড়ার বাইরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে একটি বাঘ লোকালয়ে ঘুরতে দেখা যায়। তবে বাঘটি কোন ক্ষয়ক্ষতি না করে সন্ধ্যার দিকে আবার জঙ্গলের দিকে ঢুকে যায়। স্থানীয় লোকজনকে সতর্কভাবে জমি চাষাবাদের জন্য ওই সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকজনকে সতর্কভাবে জমি চাষাবাদের জন্য ওই সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি ৪ ফেনীর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে বিওপি কর্তৃক সতর্কতার সহিত টহল পরিচালনা এবং উক্ত এলাকাটি মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিপক্ষ বিএসএফ ক্যাম্পকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন করাসহ জমিতে যাওয়ার সময় লাঠি নিয়ে যাওয়া ও চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।