লেগস্পিনার হিসেবে দলে এসে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন স্টিভেন স্মিথ। অফস্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে ইতিহাসের অন্যতম সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন বীরেন্দর শেবাগ এবং রোহিত শর্মা। সাইফ হাসানের ক্যারিয়ারও কি সাময়িক বিরতির পর মোড় নেবে নতুন ভূমিকায়? যুব দলে ছিলেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, আন্তর্জাতিক অভিষেকেও টেস্টে ইনিংসের গোড়াপত্তনে। টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের সূচনায় নেমে প্রথম ম্যাচে ১ ও পরের ম্যাচে ০। এরপর প্রায় বছর চারেকের বিরতিতে (মাঝে এশিয়ান গেমসে ৩ ম্যাচ খেলেছেন, তবে সেটা ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সারির দল) নিজেকে অনেকটাই বদলে ফেলেছেন সাইফ। রংপুর রাইডার্সের হয়ে গ্লোবাল সুপার লিগে খেলেছেন মিডল অর্ডারে, ঘরোয়া ক্রিকেটে হাত ঘোরানোর অভ্যাসটাও চালু রেখেছেন। মিডল অর্ডারে ব্যাট করা অফস্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবেই তাকে জাতীয় দলে ফিরিয়েছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। সুযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের প্রথম ওভারেই সাইফের জোড়া শিকার। ২ ওভারে ১৮ রান দিয়েছেন তিনি।
সাইফকে দলে নেওয়ার পক্ষে লিপুর যুক্তি ছিল, ‘এক ওভার-দুই ওভার তিনি করে দিতে পারবেন। তিন-চার নম্বরে এবং যদি ওপেনার দরকার হয়, সে আলোকে সাইফের দিকে চোখ ছিল। এবার তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা এ রকম বিভিন্ন জায়গায় অবদান রাখতে পারে এমন খেলোয়াড় খুঁজছি।’ কিছুদিন আগেই শেষ হওয়া টপ এন্ড টি-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে খেলে সাইফ ৬ ম্যাচের ৫ ইনিংসে মোট বোলিং করেছেন ১১ ওভার, ৯৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সেরা ২/২৮, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে। গ্লোবাল সুপার লিগে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ৪ ম্যাচে ৪ ওভার বল করে নিয়েছেন ২ উইকেট, রান দিয়েছেন ৩০। সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে, (নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের আগ পর্যন্ত) ৭৫ ম্যাচে ১৯ ওভার বল করে ২৫৯ রান দিয়ে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন সাইফ। শনিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ ওভারে সাইফকে বল দিয়েছিলেন লিটন। প্রথম বলে স্কট এডওয়ার্ডস নেন ১ রান, পরের বলে নিদামানারু মারেন চার, এরপর নিদামানারু হাঁটু গেড়ে প্যাডেল সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন লং লেগে, দৌড়ে গিয়ে দারুণভাবে বলটা তালুবন্দি করেন ‘লোকাল বয়’ জাকের আলী অনিক। উইকেটপ্রাপ্তির পরের বলটা ওয়াইড, এরপর বাই রান নেন শারিজ আহমেদ, যে বলে লিটন আরেকটু ক্ষিপ্র হলে স্টাম্পিং করতে পারতেন ডাচ ব্যাটসম্যানকে। পরের বলে নিদামানারু উড়িয়ে মেরেছিলেন, ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচটা লুফে নেন তাওহীদ হৃদয়। এভাবেই ১ ওভারে ২ সেট ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে ডাচদের বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাটা কমিয়ে দেন সাইফ, নিজের প্রথম ওভারেই। যেটা ছিল জাতীয় দলের হয়েই তার প্রথম ওভার! এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচে, হার যখন সুনিশ্চিত তখন সাইফকে দিয়ে বোলিং করিয়েছেন সে সময়কার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, প্রথম বলেই ১ রান নিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেন ফখর জামান।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের ১২তম ওভারে ফের সাইফকে বল দেন লিটন, একটি চার হজম করে নিজের দ্বিতীয় ওভারে মোট ১১ রান দেন সাইফ। এরপর আর তাকে বোলিংয়ে আনেননি লিটন, প্রয়োজনও হয়নি সেভাবে কারণ স্বীকৃত বোলাররাই করে দিচ্ছিলেন বাকি কাজটা। সাইফের কাজ ছিল জুটিটা ভাঙা, সেটা করার পাশাপাশি দুই সেট ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশিই যে করে দিয়ে গেলেন নবজন্ম পাওয়া সাইফ। সিরিজ শুরুর আগে লিটন বলেছিলেন, ‘সাইফের ক্ষেত্রে গত বিপিএল, গ্লোবাল সুপার লিগ এবং অস্ট্রেলিয়াতেও একটা সিরিজ খেলে এলো। তার যে খেলার ধরন ছিল এবং আমার কাছে মনে হয় আমাদের একজন খেলোয়াড় দরকার ছিল যে কি না মাঝের ওভারগুলোতে একটু আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে ক্রিকেট খেলতে পারবে। আবার যার কাছ থেকে এক-দুই ওভার বোলিংও পাওয়া যাবে। ওই জন্যই কিন্তু সাইফকে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং আশা করব সাইফের যে সামর্থ্য আছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে যেভাবে ক্রিকেট খেলেছে সেটা এখানেও খেলার চেষ্টা করবে।’ অন্তত বল হাতে সাইফ নিজের প্রত্যাবর্তনের প্রথম অধ্যায়ে অধিনায়কের আশাটা পূরণ করেছেন।
প্রথম ইনিংস শেষে সাইফ মাঠের বাউন্ডারি রোপের পাশে দাঁড়িয়ে দেওয়া মিনি ইন্টারভিউতে বলেছেন, ‘ফিরে আসার পেছনে অনেক কঠোর পরিশ্রম ছিল আর দীর্ঘদিনের একটা প্রক্রিয়া মেনে সফল হয়েছি। আশা করছি সুযোগটা কাজে লাগাতে পারব। আমি যখনই বোলিংয়ে আসব চেষ্টা করব পরিস্থিতির সুযোগটা কাজে লাগাতে। ঐ সময়ে দলের উইকেট দরকার ছিল, সেজন্যই অধিনায়ক আমার হাতে বল তুলে দিয়েছিল।’
লিটন একটা জুয়াই খেলেছিলেন সাইফকে বল দিয়ে, আর জোড়া শিকারে ২০০ শতাংশ রিটার্ন অধিনায়ককে দিলেন সাইফ। এখন আন্তর্জাতিক
টি-টোয়েন্টিতে (এশিয়ান গেমসের বাইরে) সাইফের রানের চেয়ে উইকেট বেশি! চারে নেমে ৩ ছক্কায় ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসও খেলেন সাইফ।