মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ

চবির তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫শ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় গত শনিবার রাত থেকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা অংশ নিয়েছে। সংঘর্ষের শুরুতে গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা পরস্পরকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে। উভয় দিক থেকে মুহুর্মুহু ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। গ্রামের লোকজনকে রড, রামদাসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করতে দেখা গেছে। বহু শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫শ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রাফি গুরুতর আঘাত নিয়ে নগরের ন্যাশনাল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি। তলপেট, মাথা, পা, উরুসহ তার সারা শরীরে মারাত্মক জখম করা হয়। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে পুরো শরীর ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।

চবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েমকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথার মাঝ বরাবর কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। গভীরতা তার মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কারণে তাকে অপারেশনের সময় অন্তত ৭ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। তাকে পোস্ট অপারেটিভ মনিটরিং এ রাখা হয়েছে।

সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মামুনের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্ত জমাট বেঁধে ছিল। এছাড়া মস্তিষ্কের তরলাংশে মাথার খুলির বিভিন্ন ছোট ছোট টুকরো ঢুকে পড়ায় জটিলতা তৈরি হয়। মাথার খুলি অপসারণ করে অস্ত্রোপচার চালানো হয়। পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে এটি সেরে উঠার আগ পর্যন্ত খুলি বসানো যাবে না বলে জানিয়েছে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। তাকে ৭২ ঘন্টার জন্যে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। 

আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তাসহ সার্বিক বিষয়াদি তদারকি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। অনেকের অবস্থা গুরুতর।