বাস চাপায় নারী মৃত্যু, ৩ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মরিয়ম বেগম (৩২) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩ টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের পান্থাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত মরিয়ম বেগম ওই এলাকার আবদুল হামিদ আলীর মেয়ে। দুর্ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কর অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। বেলা তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পযর্ন্ত এই অবরোধ চলে। প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে সড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েন যানবাহনে আটকে থাকা যাত্রীরা।  

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত মরিয়ম বেগম মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এসময় রংপুর গামী ‘শঠিবাড়ী এক্সপ্রেস’  নামের একটি দ্রুতগতির বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। মরিয়ম বেগম স্বামীর বাড়িতে থেকে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন। ঘটনার পর বাসের চালক ও বাসটি আটক করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে পান্থাপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি মাদ্রাসা, মসজিদ রয়েছে। তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া মসজিদের মুসল্লিকেও সড়ক পার হয়ে মসজিদে যেতে হয়। কিন্তু সড়ক পারাপারের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে এলাকায় নিয়মিত দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, “লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় বাস ও বাসের চালক শফিউল রহমানকে আটক করা হয়েছে। অবরোধ স্থানীয়রা তুলে নিয়েছেন। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করা হয়। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে দুর্ঘটনাস্থলে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য সড়ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।